
কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ও উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার।
শেষ আপডেট: 17 July 2024 14:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটকের কংগ্রেস সরকারেরে 'ভোকাল ফর লোকাল' টনিকে দিশাহারা বাঙালি। শুধু বাঙালি কেন বিহারসহ গোবলয় থেকে আসা লক্ষ লক্ষ হিন্দিভাষীদের এবার তল্পি গোটানোর পালা এসে গিয়েছে। কারণ, সিদ্দারামাইয়া-শিবকুমার মন্ত্রিসভা বেসরকারি চাকরিতে কন্নড় সংরক্ষণ নিয়ে একটি বিল অনুমোদন করেছে। যাতে বলা হয়েছে, বেসরকারি ক্ষেত্রে গ্রুপ সি এবং ডি পোস্টে ১০০ শতাংশ কন্নড়ভাষীকে নিতে হবে। ম্যানেজমেন্ট পোস্টে ৫০ শতাংশ এবং নন-ম্যানেজমেন্ট পোস্টে ৭৫ শতাংশ স্থানীয়দের নিয়োগের প্রস্তাবেও অনুমোদন দিয়েছে ক্যাবিনেট।
যদিও ক্যাবিনেটের এই একপেশে সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক বলে ব্যাখ্যা করে বিল প্রত্যাহারের দাবি তুলেছে তথ্যপ্রযুক্তি মহল। দেশের বড় বড় শিল্পোদ্যোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানিগুলি কংগ্রেস সরকারের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে বুধবার। বায়োকনের কিরণ মজুমদার শ'র মতে, টেক হাব হিসেবে আমরা দক্ষ, মেধাবী লোক চাই। সেখানে স্থানীয়দের যদি সব চাকরি দিতে হয়, তাহলে কী হবে? যে চাকরিতে উচ্চ মেধা ও দক্ষতার প্রয়োজন হয়, সেগুলিকে ছাড় দেওয়া উচিত।
ইনফোসিসের প্রাক্তন সিএফও মোহনদাস পাই কিরণ মজুমদার শায়ের সুরে সুর মিলিয়ে বলেছেন, এই বিল প্রত্যাহার করা উচিত। এটা অত্যন্ত বৈষম্যমূলক, পশ্চাৎমুখী এবং সংবিধান বিরোধী বিল। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশকে উদ্দেশ করে পাই জর্জ অরওয়েলের লেখা অ্যানিমাল ফার্ম উপন্যাসের মতোই এই বিলকে ফ্যাসিস্ত বলে ব্যাখ্যা করেন তিনি।
পাই আরও একধাপ সুর চড়িয়ে বলেন, ভাবাই যায় না, বেসরকারি ক্ষেত্রের নিয়োগ কমিটির চেয়ারে একজন সরকারি অফিসার বসে থাকবেন! পরীক্ষা নেওয়া হবে মেধা-দক্ষতার বিচারে নয়, শুধুমাত্র ভাষার বিচারে। কংগ্রেস কীভাবে এরকম একটি বিল নিয়ে এল বিশ্বাসই করতে পারছি না। সরকার কী করে বেসরকারি ক্ষেত্রে নিয়োগের সার্টিফিকেট দিতে পারে, রমেশের কাছে প্রশ্ন রেখেছেন পাই।
কর্নাটক অ্যাসোচেম-এর কো-চেয়ারম্যান আরকে মিশ্র বলেন, এই বিল অত্যন্ত অদূরদর্শী পদক্ষেপ। একজন সরকারি অফিসার যদি প্রত্যেক বেসরকারি কোম্পানির নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে বসে থাকেন, তাহলে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়বে।
এখন মূল প্রশ্ন হচ্ছে, এই বিল কার্যকর হলে বেঙ্গালুরুসহ কর্নাটকে চাকরি অভিলাষী বাঙালি ইঞ্জিনিয়ারদের ভবিষ্যৎ কী হবে? নেট দুনিয়া থেকে জানা যাচ্ছে, ২০১৯ সালের হিসাবে কেবলমাত্র বেঙ্গালুরুতেই আনুমানিক ১৩ লক্ষ বাঙালি বাস করেন। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও অসম ও ত্রিপুরার বাঙালিও আছেন। তবে অধিকাংশই বাংলার বাসিন্দা। আরও একটি তথ্য বলছে, বেঙ্গালুরুর বাসিন্দাদের ৫০ শতাংশই পরিযায়ী কর্মী।
দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করার পর দলে দলে ছাত্রছাত্রী কর্নাটকের বিভিন্ন কলেজে পড়তে যান। এখান থেকে তথ্যপ্রযুক্তিতে স্নাতক-ডিপ্লোমা করার পর বহু তরুণ-তরুণী কর্নাটকে চাকরির খোঁজে যান। এরপর অধিকাংশ বেসরকারি চাকরিতে স্থানীয়দের সংরক্ষণ আইন হয়ে গেলে তাঁদের সামনে সেই দরজা বন্ধ হয়ে যাবে।
বাঙালি ছাড়াও বিপদে পড়বেন বিহার, ঝাড়খণ্ড, ছত্তীসগড়, উত্তর ও মধ্যপ্রদেশের হিন্দিভাষীরা। এই আইনের ফলে সি এবং ডি গ্রুপে তাঁদের জন্য চাকরির দরজা চিরতরে বন্ধ হতে চলেছে। মালদহ-মুর্শিদাবাদ সহ বাংলার বহু যুবক কর্নাটকে নির্মাণকাজ এবং অন্যান্য কাজের চাকরি করেন। ফলে তাঁদেরও ভবিষ্যতে কর্নাটকে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ হতে চলেছে সিদ্দারামাইয়া সরকারের এই বিল বিধানসভায় পাশ হলে।