দক্ষিণী ছবি থেকে হিন্দি ছবিতে তথা হিন্দি বলয়ে উত্তরণ ঘটেছিল কমল হাসানের। ৪৪ বছর পর সেই কমল হাসানের হাতেখড়ি হতে চলেছে জাতীয় রাজনীতিতে।

কমল হাসানের হাতেখড়ি হতে চলেছে জাতীয় রাজনীতিতে
শেষ আপডেট: 28 May 2025 17:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঠিক ৪৪ বছর আগের কথা। ১৯৮১ সালের ৫ জুন। সেই প্রথম বার আসমুদ্র ভারত চিনেছিল এক দক্ষিণী নায়ককে— কমল হাসান (Kamal Hasan)। কে বালাচন্দ্রনের পরিচালিত এক হিন্দি ছবি মুক্তি পেয়েছিল সেদিন। ছবির নাম— এক দুজেকে লিয়ে। ছবি তো হিট, তার গানগুলোও সুপারহিট—'তেরে মেরে বিচ মে ক্যায়সা হ্যায় ইয়ে বন্ধন...’।
সেবার দক্ষিণী ছবি থেকে হিন্দি ছবিতে তথা হিন্দি বলয়ে উত্তরণ ঘটেছিল কমল হাসানের। ৪৪ বছর পর সেই কমল হাসানের হাতেখড়ি হতে চলেছে জাতীয় রাজনীতিতে।
কমল হাসান বরাবরই নরেন্দ্র মোদীর সমালোচক বলে পরিচিত। তামিলনাড়ু তথা দক্ষিণের রাজনীতিতে বিজেপি যখন ভিত মজবুত করতে চাইছে, ঠিক সেই সময়ে সংসদের উচ্চকক্ষে দক্ষিণের ঠোঁটকাটা নেতার অনুপ্রবেশ বিজেপির জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।
ডিএমকে-র বর্তমান তিন রাজ্যসভার সদস্য— পি. উইলসন, এম.এম. আব্দুল্লা ও এম. শানমুগম এবং তাঁদের জোটসঙ্গী এমডিএমকে নেতা ভাইকোর মেয়াদ আগামী জুলাইয়ে শেষ হচ্ছে। একইসঙ্গে, এআইএডিএমকে-র এন. চন্দ্রশেখরন এবং পিএমকে নেতা (এবং প্রাক্তন এআইএডিএমকে জোটসঙ্গী) অনবুমণি রামদসের মেয়াদও শেষ হবে।
নতুন মনোনীতদের মধ্যে কেবলমাত্র আইনজীবী পি. উইলসন পুনরায় রাজ্যসভার প্রার্থী হয়েছেন। বাকি দুজন হলেন ডিএমকে-র দীর্ঘদিনের সক্রিয় কর্মী কবি সালমা (রোকাইয়া মালিক) এবং সেলম জেলার নেতা এস.আর. শিবলিঙ্গম। দুজনই প্রথমবারের মতো রাজ্যসভার জন্য মনোনীত হলেন।
ডিএমকে-র মুখপাত্র ও প্রাক্তন সাংসদ টি.কে.এস. ইলানগোভান জানিয়েছেন, ‘২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় কামাল হাসানের সঙ্গে জোটের শর্ত অনুযায়ী এই আসনটি এমএনএম-কে বরাদ্দ করা হয়েছে। সেসময় এমএনএম-কে লোকসভায় কোনও আসন দেওয়া হয়নি, তবু কামাল হাসান রাজ্যজুড়ে ডিএমকে প্রার্থীদের প্রচার করেছিলেন। সেই অবদানের স্বীকৃতিতেই এবার রাজ্যসভার আসন।’
ডিএমকে সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, প্রার্থী বাছাইয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায় ও লিঙ্গের প্রতিনিধিত্বকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেন, ‘মুসলিম সম্প্রদায় থেকে এম.এম. আব্দুল্লাকে এবার মনোনীত না করলেও কবি সালমা, এক মুসলিম মহিলাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আবার খ্রিস্টান সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত পি. উইলসনকেও পুনরায় মনোনয়ন দিয়ে খ্রিস্টানদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।’
নির্বাচন কমিশন গত ২৬ মে ঘোষণা করেছে, ১৯ জুন ছয়টি রাজ্যসভা আসনের নির্বাচন হবে। ওইদিন সন্ধ্যাতেই গণনা হবে। ২ জুন জারি হবে সরকারি বিজ্ঞপ্তি, আর মনোনয়নের শেষ দিন ৯ জুন।
ডিএমকে মনোনীত তিন প্রার্থী:
সালমা (রোকাইয়া মালিক): তিরুচির পোন্নমপট্টি পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সভাপতি, ২০০৬ সালে মারুঙ্গাপুরি বিধানসভা আসন থেকে ডিএমকে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তামিল সাহিত্যিক জগতে তিনি সুপরিচিত। তাঁর কবিতা বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তামিলনাড়ু সমাজকল্যাণ বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবেও কাজ করেছেন।
পি. উইলসন: ২০১৯ সাল থেকে রাজ্যসভার সদস্য। অতীতে ভারতের অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেল এবং তামিলনাড়ুর অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। এম. করুণানিধির মেরিনা সমাধির জন্য আইনি লড়াইয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
এস.আর. শিবলিঙ্গম: সেলাম জেলার প্রবীণ ডিএমকে নেতা, বর্তমানে দলটির সেলাম পূর্ব জেলা সম্পাদক। ১৯৮৯ ও ১৯৯৬ সালে তামিলনাড়ু বিধানসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।