মুম্বইয়ের চেম্বুরের একটি মন্দিরে পুজো দিতে এসে এই দৃশ্য দেখে হতবাক ভক্তরা মুহূর্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশে, অভিযুক্ত পুরোহিতকে জেরা করা হলে তাঁর কথা শুনে আরও অবাক হয়ে যান সকলে।

বদলে ফেলা হয়েছে কালীর রূপ!
শেষ আপডেট: 26 November 2025 17:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শ্যামবর্ণ, রুদ্ররূপে থাকা কালীমূর্তিটি সেজে উঠেছে মাদার মেরির মতো (Kali Idol to Mother Mary)! মাথায় বড় সোনালি ক্রস-সহ মুকুট, গায়ে সোনালি পোশাক, হাতে একটি শিশুর মূর্তি- সব মিলিয়ে পুরো চেহারা পাল্টে গিয়েছে। মুম্বইয়ের চেম্বুরের একটি মন্দিরে (Mumbai temple incident) পুজো দিতে এসে এই দৃশ্য দেখে হতবাক ভক্তরা মুহূর্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশে, অভিযুক্ত পুরোহিতকে জেরা করা হলে তাঁর কথা শুনে আরও অবাক হয়ে যান সকলে।
ঘটনাটি ঘটেছে চেম্বুরের আনিক ভিলেজের কালীমন্দির, এটি স্থানীয় একটি শ্মশানের ভিতরে আছে। ভক্তরা জানান, তাঁরা মন্দিরে ঢুকতেই দেখেন কালীমূর্তির গায়ের রং সাদা করে দেওয়া হয়েছে। পিছনের লাল কাপড়ে বড় সোনালি ক্রস। দু’পাশে টাঙানো ছিল ঝলমলে লাইট আর টিনসেল। এই সাজ দেখে অনেকে প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি যে এটি সেই কালীমূর্তি। মূর্তির রূপ বদলাতে ভাঙচুর (Kali idol vandalised) করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
মন্দির কমিটির কাছে অভিযোগ জানানো হয়। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় কয়েকটি হিন্দু সংগঠন, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল-সহ আরও অনেকে। তাঁরা পুলিশ ডেকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন। ভক্তদের অভিযোগ, এটি স্পষ্টভাবেই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার মতো কাজ।
পুলিশ সেখানে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হলে পুরোহিত দাবি করেন, দেবী কালীই (Devi Kali) নাকি স্বপ্নে তাঁকে নির্দেশ দেন মূর্তিকে মাদার মেরির রূপে সাজাতে! সেই ‘আদেশ’ মাথায় রেখেই তিনি মূর্তির রূপ বদলেছেন বলে দাবি করেন। তবে এই ব্যাখ্যায় কেউই সন্তুষ্ট হননি।
বিক্ষোভ বাড়তে শুরু করায় মূর্তিটিকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সবকিছুই পুলিশের উপস্থিতিতে করা হয়, যাতে কোনও গুজব বা অশান্তি না ছড়ায়। পুরোহিতকে গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হয়। আদালত তাঁকে দু’দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর উদ্দেশ্য কী ছিল, আদৌ তিনি একা এই কাজ করেছেন কিনা, স্বপ্নাদেশের দাবি সত্যি নাকি অন্য কোনও চক্রান্ত ছিল- সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সমগ্র ঘটনায় স্থানীয়রা এখনও ক্ষুব্ধ। তাঁদের দাবি, মন্দিরে এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে মন্দির চত্বরে।