.webp)
কে কবিতা
শেষ আপডেট: 9 April 2024 15:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমার ভাবমূর্তি, মানসম্মানকে নিশানা করা হয়েছে। আমার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অধিকারকে প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি আমার বিরুদ্ধে যে তদন্ত চালাচ্ছে, তা পুরোপুরি সংবাদমাধ্যমের বিচারের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। মঙ্গলবার ঠিক এই ভাষাতেই দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউয়ের বিশেষ আদালতে পত্রবাণ হানলেন তেলঙ্গানার ভারত রাষ্ট্র সমিতির নেত্রী কে কবিতা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের কন্যা তথা রাজ্যের বিধান পরিষদীয় সদস্য কে কবিতার জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়ে জেল হেফাজতের মেয়াদ ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত বহাল রেখেছে আদালত।
উল্লেখ্য, এদিনই দুপুরে দিল্লির আবগারি দুর্নীতি মামলায় মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আবেদনের রায় ঘোষণা করবে দিল্লি হাইকোর্ট। তার আগেই এই দুর্নীতিতে অন্যতম অভিযুক্ত, সরকারি অর্থ তছরুপ প্রতিরোধ আইনে ইডির হাতে গ্রেফতার হওয়া নেত্রী কবিতার হেফাজতের মেয়াদ বৃদ্ধি করল আদালত।
এদিন আদালতকে লেখা এক চিঠিতে কবিতা বলেছেন, যা চলছে সেটা একটা মিডিয়া ট্রায়াল। এই বিচারে তাঁর সুনামকে ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। তাঁর যাবতীয় গোপনীয়তাকে মেলে ধরা হয়েছে। তাঁর লেখা চিঠিটি এজলাসে পড়ে শোনান কবিতার আইনজীবী। কেসিআর কন্যার অভিযোগ, আমি শিকার হয়েছি। আমার ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক সুনামকে নিশানা করা হয়েছে। আমার মোবাইল ফোন সমস্ত টেলিভিশন চ্যানেলে দেখানো হয়েছে। সেখানে আমার গোপনীয়তাকে লোকচক্ষুর সামনে নগ্ন করে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি আরও লিখেছেন, এজেন্সিগুলোর সঙ্গে বরাবর আমি সহযোগিতা করে এসেছি। আমার সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য দিয়েছি। ইডির দাবি মিথ্যা প্রমাণ করে আমার সব মোবাইল ফোন ওদের হাতে তুলে দিয়েছি। একটি ফোনও নষ্ট করা হয়নি। এর আগে কে কবিতাকে আদালত জানিয়ে দেয়, ব্যক্তিগতভাবে তিনি এজলাসে কিছু বলতে পারেন না। তাঁর যা বলার আছে, তা যেন তিনি লিখিত আকারে বলেন।
চিঠিতে কবিতা বিজেপিকে আক্রমণ করেন। বলেন, ওরা কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির অপব্যবহার করছে। ইডি-সিবিআইয়ের মামলাগুলির ৯৫ শতাংশই বিরোধী দলের নেতানেত্রীদের বিরুদ্ধে। আর যখন কেউ বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন, তখনই আচমকা সেই মামলায় ইতি পড়ে যাচ্ছে। তাঁর আরও অভিযোগ, সংসদে দাঁড়িয়ে বিজেপি নেতারা হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, চুপ করে থাকতে, নইলে বাড়িতে ইডি পাঠিয়ে দেওয়া হবে। আর আমার দল যখন রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল, তখন কেন আমায় কেন গ্রেফতার করা হল না। এখন বিরোধী বলেই কি এই ধরপাকড়!
হেফাজতের মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণার পর এজলাস ছাড়ার সময় কবিতা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, এটা রাজনৈতিক মামলা। বিরোধীদের নিশানা করতেই এ ধরনের মামলা খোলা হয়েছে। নিছক মুখের কথার উপর ভিত্তি করেই এই মামলা, যা ভবিষ্যতে দাঁড়াবে না।