জ্যোতি মলহোত্রা। এই নামটি নিয়ে এখন দেশজুড়ু চর্চা চলছে। পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জ্যোতি মলহোত্রা
শেষ আপডেট: 19 May 2025 19:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জ্যোতি মলহোত্রা (Jyoti Malhotra)। এই নামটি নিয়ে এখন দেশজুড়ু চর্চা চলছে। পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির (Pakistan Spy) অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, জেরায় চর হিসেবে কাজ করার কথা জ্যোতি স্বীকার করেছেন এবং তাঁর কোনও অনুতাপ নেই। এদিকে জ্যোতির বাবা (Jyoti Malhotra Father) মেয়েকে এখনও নির্দোষ মনে করেন। তিনি পাল্টা কিছু প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন।
ট্রাভেল ভ্লগার হিসেবে পরিচিত জ্যোতি দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াতেন। ইন্দেনেশিয়া থেকে শুরু করে শ্রীলঙ্কা সব দেশ ঘুরলেও পাকিস্তানের প্রতি ছিল তাঁর বিশেষ প্রেম! একাধিকবার সে দেশে গেছিলেন তিনি। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসবাদী হামলার আগে জ্যোতি সেখানে গেছিলেন। পাক হাই কমিশনের আধিকারিকের সঙ্গে তাঁর ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরালও হয়েছে। তবে জ্যোতির বাবা এসব নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবছেন না। মেয়ে নির্দোষ বলেই দাবি তাঁর।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে জ্যোতির বাবা হরিশ মলহোত্রা বলেন, ''মেয়ে ঘুরতে গিয়ে ভিডিও বানাতো। তার জন্যই পাকিস্তানে গেছিল। কেউ কি ঘুরতে যেতে পারে না পাকিস্তানে? আর সেখানে গিয়ে যদি কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়, তার সঙ্গে কি ফোনও কথা বলা যাবে না?'' এইসব প্রশ্ন করার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন হরিশ। তাঁর কথায়, বাড়িতে এসে তাঁদের ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, ল্যাপটপ এবং পাসপোর্ট নিয়ে গেছে পুলিশ। আগাম কিছু জানানো হয়নি। এদিকে জ্যোতির পাকিস্তানে যাওয়ার অনুমোদন ভারত-পাকিস্তান দু-পক্ষই দিয়েছিল।
৩৩ বছর বয়সি জ্যোতিকে শুক্রবার হরিয়ানার নিউ অগ্রসেন এক্সটেনশন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার আদালতে পেশের পর পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। জ্যোতি কাশ্মীরে পহলগাম, পাকিস্তানে যাওয়ার পাশাপাশি এসেছিলেন কলকাতাতেও। এই সফরগুলোর মধ্যে কোনও সংযোগ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্র জানিয়েছে, নয়া যুদ্ধকৌশলের ছক মতো জ্যোতিকে পাকিস্তানপন্থী বক্তব্য তুলে ধরার চাপ দিয়েছিল ওপারের ছদ্মবেশী এজেন্টরা। তদন্তে নেমে জানা গিয়েছে, জ্যোতিকে পাকপন্থী প্রচার ছাড়াও সেখানকার চর সংস্থা আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ দিয়েছিল। এখন সেই দৃষ্টিকোণ থেকে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, কী সেই কাজ!