
হেমা কমিশন।
শেষ আপডেট: 20 August 2024 18:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর জি কর কাণ্ড যখন সরকারি হাসপাতালে দুর্নীতির আখড়ার ছবি তুলে ধরছে, তখন মালয়ালম চলচ্চিত্র শিল্পেও একইরকম মাফিয়ারাজ, মহিলা শিল্পীদের যৌন শোষণের কদর্য বাস্তবটি তুলে ধরল বিচারপতি হেমা কমিটির রিপোর্ট। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, মহিলা শিল্পীদের জন্য থাকে না কোনও টয়লেটের ব্যবস্থা। ১৯ ঘণ্টার শিফটে কাজ করতে হয়। সর্বোপরি তাঁদের সঙ্গে ক্রীতদাসের চেয়েও খারাপ ব্যবহার করা হয়। মালয়ালি চলচ্চিত্র দুনিয়া চালায় মাফিয়ারা। ক্ষমতার অপব্যবহার এবং যৌন নিগ্রহের ঘটনা আখছার ঘটে। এখানে উল্লেখ করা যায়, আর জি কর হাসপাতাল নিয়েও পড়ুয়া ডাক্তারদের অভিযোগের সঙ্গে হেমা কমিটির রিপোর্টের অনেক মিল রয়েছে।
সোমবার প্রকাশিত এই রিপোর্টে কেরলের মালয়ালম সিনেমা জগতের অন্ধকার দিকটি দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। পুরুষ-শাসিত এই শিল্পে চোখ কপালে তুলে দেওয়ার মতো সত্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই জগতে মাফিয়ারাজ চলে। যার মধ্যে শীর্ষ অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক থেকে শুরু করে আরও অনেকে আছেন। ২০১৭ সালে গঠিত এই কমিটি মালয়ালি সিনেমা জগতে মহিলাদের উপর নির্যাতন নিয়ে তদন্ত শুরু করেছিল।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, গ্ল্যামারের অন্ধ আকর্ষণে মেয়েরা এখানে ছুটে আসে। কিন্তু, এখানে প্রবেশ করার পরই দেখা যায়, তাঁদের স্বপ্নচ্যুতি ঘটেছে। নিত্য অপমান, অপদস্থ, হেনস্তা ও যৌন লাঞ্ছনা সহ্য করে তাঁদের কাজ করতে হয়। এর প্রতিবাদ করা চলে না কিংবা বিচার পাওয়ারও কোনও অবকাশ নেই শিল্পীদের। উইমেন ইন সিনেমা কালেক্টিভের একটি আবেদনের ভিত্তিতে এই কমিটি গঠিত হয়েছিল। এক মহিলা অভিনেতাকে চলন্ত গাড়িতে যৌন হেনস্তার অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনায় অভিনেতা দিলীপের এখনও বিচার চলছে।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, মেয়েদের জন্য কোনও টয়লেটের ব্যবস্থা থাকে না। এমনকী পোশাক বদলানোর কোনও সুরক্ষিত ঘর পান না মহিলা শিল্পীরা। কমিটির সুপারিশ মহিলাদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে বায়ো টয়লেটের ব্যবস্থা রাখতে হবে স্পটে। একইভাবে শ্যুটিং স্পটে মেয়েদের পোশাক বদলানোরও নিরাপদ ব্যবস্থা রাখতে হবে।
কোনও উঠতি অভিনেতাকে যখন সুযোগ পাইয়ে দেওয়া হয়, কিংবা অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে কোনও তরুণী যখন এই চৌহদ্দিতে পা দেন, তখন তাঁর কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা আদায় করাই এই জগতে দস্তুর। ওই শিল্পীর ভাগ্য খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁকে একপ্রকার ব্যবহার করা হয়। এই আপস ও সমঝোতার উপর ভর দিয়েই নারী শোষণ চলে। যার একটি হল পুরুষের যৌন বাসনা পূরণ।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, শ্যুটিংয়ে গিয়ে যে হোটেলের ঘরে মহিলাদের থাকতে দেওয়া হয়, রাতে সেখানে দরজায় টোকা মারেন পুরুষ সহকর্মীরা। যাঁদের অধিকাংশ মদ্যপ অবস্থায় রাতবিরেতে ঘরে ঢোকার চেষ্টা করেন। টোকা মারায় কাজ না হলে দরজা এমনভাবে পেটানো হতে থাকে যে মনে হবে তা ভেঙেই ফেলা হবে, কমিশনের কাছে অভিযোগ করেছেন শিল্পীরা।
হেমা কমিশনের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এই হেনস্তা সত্ত্বেও তাঁরা পুলিশে অভিযোগ করতে ভয় পান, কারণ এতে তাঁদের কেরিয়ার শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সাধারণ মহিলাদের তুলনায় যেহেতু তাঁরা জনসমাজে পরিচিত মুখ তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও অপদস্থ হওয়ার হাত থেকে বাঁচতে মুখ বুজে সহ্য করেন লাঞ্ছনা। রিপোর্টে আরও প্রকাশিত যে, তারকা অভিনেত্রী ছাড়া জুনিয়র ও সহশিল্পীদের সঙ্গে কোনও লিখিত চুক্তি হয় না। ফলে তাঁদের মজুরিও সময়মতো দেওয়া হয় না। কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও পারিশ্রমিকের জন্য ভিক্ষা চাওয়ার মতো ঘুরতে হয়।