
জয়শঙ্কর
শেষ আপডেট: 6 August 2024 16:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আন্দোলনের উত্তাপে বাংলাদেশে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। সোমবার প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা নিয়ে দেশ ছেড়েছেন শেখ হাসিনা। কিন্তু এখনও হিংসার আগুন নেভেনি। শান্তি ফেরেনি বাংলাদেশে। এই পরিস্থিতিতে সেদেশের সংখ্যালঘু তথা হিন্দুদের উপর আক্রমণ চলছে, সেই নিয়ে 'উদ্বেগ' প্রকাশ করলেন খোদ বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
মঙ্গলবার সংসদে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিবৃতি দেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সেখানেই সংখ্যালঘুদের আক্রান্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। জয়শঙ্কর এদিন রাজ্যসভায় জানান, বাংলাদেশে মন্দিরেও হামলা চলছে। সামগ্রিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে দিল্লি। যোগাযোগ রাখা হচ্ছে কূটনৈতিক স্তরেও দিল্লি ঢাকার ভারতীয় দূতাবাস এবং সেদেশের চারটি উপদূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ভারত সরকার। বাংলাদেশ সীমান্তে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। বাংলাদেশে থাকা ভারতীয়দের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
বাংলাদেশে কার্ফু জারি থাকা সত্ত্বেও যেভাবে রাজধানী ঢাকায় ভাঙচুর চলেছে, তা 'উদ্বেগজনক' বলে ব্যাখ্যা করেন জয়শঙ্কর। তাঁর কথায়, “আমরা সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি। বহু গোষ্ঠী, সংগঠন সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার দিকটি নিশ্চিত করছে বলে খবর রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।
পড়শি দেশের হিংসাত্মক পরিস্থিতি নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন ভারত সরকার। গোটা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি ভারতের আগামী পদক্ষেপ ঠিক করতে মঙ্গলবার সর্বদল বৈঠক ডাকে মোদী সরকার। এনডিএ-র সাংসদদের পাশাপাশি এদিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী জোটের একাধিক সাংসদও।
এদিনের বৈঠকে বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে যে সব ভারতীয় বসবাস করছেন, তাঁদের সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১৯০০০ ভারতীয় আছে বাংলাদেশে, তাদের মধ্যে রয়েছে ৯০০০ পড়ুয়া। অনেকেই জুলাই মাসে ফিরে এসেছেন ভারতে।
বর্তমানে ভারতে থাকা শেখ হাসিনার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে যে কেন্দ্র উদ্যোগী তাও সরকারের তরফে বিরোধী শিবিরকে জানানো হয়। বিরোধীরাও এই বিষয়ে অবশ্য সরকারের সঙ্গে একমত। বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে মোদী সরকারকে সব রকমের সমর্থন জানাবে বলেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিরোধীরা।