
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 31 March 2025 18:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যত সময় এগোচ্ছে, মায়ানমারের (Myanmar) ভূমিকম্পের (Earthquake) বীভৎসতা আরও প্রকট হচ্ছে। গত শুক্রবার সকালে সে দেশের মান্দালয় প্রথম ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৭.৭। পরে ৬.৪ মাত্রার আফটার শকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। কিন্তু কতটা গুরুতর হয়েছে মায়ানমারের পরিস্থিতি তা দেখাল ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন বা ইসরো (ISRO)।
ভূমিকম্পের আগে এবং পরে, মায়ানমারের উপগ্রহ চিত্র প্রকাশ করেছে ইসরো। ২৯ মার্চের সেই ছবিতে দেখা গেছে, মান্দালয়ে ঠিক কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একাধিক দর্শনীয় স্থান পুরোপুরি বা অর্ধেক ধ্বংস হয়ে গেছে। উঁচু উঁচু বহু বহুতল ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে। ভূবিজ্ঞানীদের মতে, যে ভূমিকম্প মায়ানমারের মান্দালয়ের কাছে হয়েছে, তা ৩৩৪টি পরমাণু বোমার ক্ষমতার সমান। অনুমান, ভূমিকম্পে মোট মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
মায়ানমারের সঙ্গে থাইল্যান্ডেও ভূমিকম্প হয়েছে। দুই দেশ মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা এখনও পর্যন্ত ১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের তলা থেকে আরও মৃতদেহ উদ্ধার করে আনা হচ্ছে। যত সময় গড়াচ্ছে, ততই জীবিত কারও থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে। সে দেশের সরকারি মুখপাত্র সোমবার জানান, আরও ৩০০ জন নিখোঁজ আছেন। কিন্তু, সঠিক সংখ্যা এখনও সরকার জানে না।

এই ভূমিকম্পই শেষ নয়। আগামী দিনে আরও বিরাট মাত্রার কম্পন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক এক সংবাদমাধ্যমকে এক ভূবিজ্ঞানী জানিয়েছেন, সবথেকে খারাপ অবস্থা এখনও আসেনি। আগামী দিনে তাও হতে পারে। কারণ মায়ানমারের ভূগর্ভে ইন্ডিয়ান টেকনোটিক প্লেট এখনও ইউরেশিয়ান প্লেটের সঙ্গে অনবরত ঘষা খেয়ে চলেছে। ফলে প্রায় কয়েক মাস ধরে আফটার শক চলতেই থাকবে এই এলাকায়। রেকর্ড অনুযায়ী ১৯১২ সালের পর এতবড় বিধ্বংসী ভূকম্পন হয়েছে মায়ানমারে।

ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করতে ভারত-সহ একাধিক দেশ এগিয়ে এসেছে। ভারত প্রথম দফার ত্রাণসামগ্রী ইতিমধ্যেই পাঠিয়েছে এবং আরও সাহায্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ভারতের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ৮০ জন সদস্যও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেবেন। চিন, দক্ষিণ কোরিয়া, আমেরিকা, ইরান, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া মায়ানমারকে সহায়তা পাঠাচ্ছে।