আত্মীয়রা ঘরে জড়ো হয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ততক্ষণে ছড়িয়ে পড়েছে মৃত্যুসংবাদ। এমন সময়ই অবিশ্বাস্য ঘটনা।

ছবি - এআই
শেষ আপডেট: 7 November 2025 20:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৭০ বছরের বৃদ্ধকে মৃত (dead) ভেবে শেষ কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিল পরিবার। আত্মীয়রা ঘরে জড়ো হয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ততক্ষণে ছড়িয়ে পড়েছে মৃত্যুসংবাদ (death news)। এমন সময়ই অবিশ্বাস্য ঘটনা (miracle)।
পরিবারের চোখের সামনে হঠাৎ শ্বাস নিতে শুরু করেন ‘মৃত’ বৃদ্ধ (Indore man alive before funeral)। ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বৃদ্ধের নাম মাখনলাল বৈদ। তাঁর ছেলে সঞ্জয় বৈদ জানিয়েছেন, নভেম্বরের ১ তারিখে ব্রেন হেমারেজে আক্রান্ত হন মাখনলাল। তাঁকে ইন্দোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অস্ত্রোপচার সফল হলেও কিছুক্ষণ পরেই তাঁর শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে এবং তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখতে হয়।
দিন কয়েকেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরিবার সিদ্ধান্ত নেয়, তাঁকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে আসা হবে। বৃহস্পতিবার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, রোগীর দেহে কোনও প্রাণচিহ্ন নেই। শোকগ্রস্ত পরিবার তখন একপ্রকার ধরেই নেয় যে, তিনি আর নেই।
ছেলে সঞ্জয় জানান, “আমি বাবার মৃত্যুর খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলাম। শেষ কাজের সময় ও জায়গার তথ্যও দিয়েছিলাম। সবাই জড়ো হচ্ছিলেন, তখনই দেখি বাবা শ্বাস নিতে শুরু করেছেন!”
মুহূর্তের মধ্যে শোকের পরিবেশ বদলে যায় আনন্দের মুহূর্তে, এ যেন নতুন জন্ম। সঞ্জয়ের ভাষায়, “এটা সত্যিই এক অলৌকিক ঘটনা। বাবা এখন বাড়িতেই আছেন, ধীরে ধীরে সেরে উঠছেন। আমরা সবাই প্রার্থনা করছি, তিনি যেন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন।”
ঘটনাটি ইতিমধ্যেই ইন্দোরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা বিরল হলেও অসম্ভব নয়। কখনও কখনও লাইফ সাপোর্ট বন্ধের পরও মস্তিষ্ক বা শরীর সামান্য সময়ের জন্য ‘রিস্টার্ট’ করতে পারে, যা অলৌকিক ছাড়া আর কিছু নয়।
তবে দেশে এই ঘটনা প্রথম নয়। ওড়িশার পুরীতে ৮৬ বছরের এক বৃদ্ধার সঙ্গেও ঘটেছে একই ঘটনা। যাঁকে মৃত ভেবে শেষকৃত্যের জন্য শ্মশানে আনা হয়েছিল, হঠাৎ বোঝা গেল, তিনি 'মরেন নাই'। বিলকুল জীবিত! ওই ঘটনায় পরিবার, শ্মশানের পুরোহিত থেকে শুরু করে উপস্থিত সকলে হতবাক হয়ে যান।
অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা পি. লক্ষ্মী (৮৬) মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন। গঞ্জাম জেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন বলে পরিবারের দাবি। তারপর শেষকৃত্যের জন্য তাঁর দেহ নিয়ে যাওয়া হয় পুরীর স্বর্গদ্বার শ্মশানে।
ঘটনার পর তড়িঘড়ি চিতার আয়োজন বন্ধ করা হয়। বৃদ্ধাকে নিয়ে যাওয়া হয় পুরী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন, তিনি জীবিত আছেন এবং তৎক্ষণাৎ জরুরি চিকিৎসা শুরু হয়।