ইন্ডিগোর উড়ান পরিষেবায় চলছে বিপর্যয়। দেশজুড়ে দফায় দফায় দেরি ও ক্যানসেল, অন-টাইম পারফরম্যান্স নেমে গেল মাত্র ৩৫ শতাংশে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 3 December 2025 19:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা দু’দিন ধরে ভয়াবহ অপারেশনাল সমস্যার (Operational Disruption) মুখোমুখি দেশের সবচেয়ে বড় বিমান সংস্থা ইন্ডিগো (IndiGo)। মঙ্গলবার সংস্থার অন-টাইম পারফরম্যান্স (On-Time Performance) এক ধাক্কায় নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৫ শতাংশে। দীর্ঘদিন সময়নিষ্ঠতার জন্য পরিচিত বিমান সংস্থার এমন অবস্থা 'নজিরবিহীন' বলেই মনে করছেন যাত্রী ও বিশেষজ্ঞেরা।
বুধবার পরিস্থিতি আগের দুদিনের চেয়েও খারাপ হয়। দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদ-সহ চার ব্যস্ত বিমানবন্দর মিলিয়ে দুপুর নাগাদ প্রায় ২০০টি ফ্লাইট বাতিল (Flight Cancellation) হয়েছে। একের পর এক বাতিল, দেরিজুড়ে যাত্রীদের নাভিশ্বাস ওঠে।
নতুন ডিউটি-নর্মেই ঝামেলার সূত্র
ডিজিসিএ-র (DGCA) নতুন ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন (FDTL Norms) কার্যকর হওয়ার পর থেকেই ইন্ডিগোর সমস্যা বেড়েছে, তা একবাক্যে স্বীকার করছেন অনেকেই। নতুন নিয়ম অনুযায়ী পাইলট–কেবিন ক্রুকে বাড়তি বিশ্রাম (Mandatory Rest Hours) দিতে হবে। দৈনিক উড়ান-সময়ের (Flight Time) কড়া সীমা, সাপ্তাহিক–মাসিক সর্বোচ্চ সময় নির্ধারণ এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমপক্ষে ১০ ঘণ্টা বিশ্রাম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এই বদলেই হঠাৎ করে দেখা গেছে ক্রু সংকট (Crew Shortage)। অনেক উড়ান রানওয়েতেই আটকে যায়, কারণ অন-ডিউটি কেবিন ক্রু মেলেনি। কোথাও আট ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে (Delay) চলায় চাপে পড়েন যাত্রীরা।
ইন্ডিগোর বক্তব্য
এক বিবৃতিতে সংস্থা জানিয়েছে, অপ্রত্যাশিত প্রযুক্তিগত সমস্যা (Tech Glitch), শীতকালীন সময়সূচি পরিবর্তন, খারাপ আবহাওয়া (Adverse Weather), আকাশসীমায় হেভি ট্র্যাফিক (Congestion) এবং নতুন রোস্টারিং নিয়ম মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। আর তাই গত দু’দিনে নেটওয়ার্কজুড়ে ব্যাপক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
সংস্থার দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আগামী ৪৮ ঘণ্টার জন্য ক্যালিব্রেটেড শিডিউল অ্যাডজাস্টমেন্ট (Schedule Adjustment) করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের বিকল্প ফ্লাইট বা রিফান্ড দেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের যাত্রার আগে নিজেদের ফ্লাইট স্ট্যাটাস দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থা।
দেশজুড়ে বাতিলের ছড়াছড়ি
হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (RGIA) বুধবার সকাল থেকেই ছিল রীতিমতো বিশৃঙ্খলা। ৩৩টি ফ্লাইট বাতিল, লম্বা লাইন, ক্ষুব্ধ যাত্রী, সোশ্যাল মিডিয়া ভরে যায় অভিযোগে। বহু যাত্রী দাবি করেছেন, শেষ মুহূর্তে বাতিল বা ডিলে-র মেসেজ আসায় তাঁদের জরুরি মিটিং বা কর্মসূচিতে বাতিল করতে হয়েছে।
বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (KIA) ৪২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। দিল্লি বিমানবন্দরেও আমেডিউস সিস্টেমে (Amadeus System) প্রযুক্তিগত সমস্যায় চেক-ইন–রিজার্ভেশন প্রক্রিয়া শ্লথ হয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
যাত্রীর ক্ষোভ উছলে উঠল সোশ্যাল মিডিয়ায়
এক যাত্রীর বক্তব্য, “রাত তিনটে থেকে হায়দরাবাদ বিমানবন্দরে আটকে আছি, জরুরি মিটিং মিস করেছি।” আর একজন লিখেছেন, “উদয়পুরের ফ্লাইট প্রথমে ১.৫৫, তারপর ২.৫৫, এখন ৪.৩৫। এটা কি মজা? বিমানবন্দরে ঢোকার তিন মিনিট আগে মেসেজ পেলাম।”
দেশের ৬০ শতাংশেরও বেশি মার্কেট শেয়ার (Market Share) থাকা ইন্ডিগোর এই পর পর ব্যাঘাতে গোটা অ্যাভিয়েশন সিস্টেমই (Aviation System) বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।