
শেষ আপডেট: 20 December 2023 19:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘরের চৌহদ্দিতে সন্তান-সন্ততি নিয়েই ছিল জীবন। চৌকাঠের বাইরে পা রেখে ব্যবসা সামলানোর কথা স্বপ্নেও ভাবেননি। সংসার সামলাতে সামলাতে কখন যে চৌকস ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছেন তা আজও ভেবে পাননা দেশের ধনীতম মহিলা সাবিত্রী জিন্দাল। ব্লুমবার্গ বিলিওনেয়ার ইনডেক্সের রিপোর্ট বলছে, এ বছর ওপি জিন্দল গোষ্ঠীর কর্ণধার সাবিত্রীর সম্পত্তি বৃদ্ধির পরিমাণ আম্বানি-আদানি তো দূর, উইপ্রোর মালিক দেশের ধনীতম ব্যক্তি আজিম প্রেমজির থেকেও বেশি।
বর্তমানে দেশের ধনীতম মহিলাদের তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছেন সাবিত্রী জিন্দাল। বিলিয়নিয়ারদের তালিকায় নাম রয়েছে তাঁর। শুধু তাই নয়, গত কয়েক মাসে লাফিয়ে লাফিয়ে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে। ব্লুমবার্গ বিলিওনেয়ার ইনডেক্সের রিপোর্ট বলছে, ৭৩ বছরের সাবিত্রী জিন্দলের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ২৮৩০ কোটি ডলার ছুঁয়েছে। এ বছর দেশের ধনীতমদের তালিকায় তিনিই শীর্ষে, কারণ উইপ্রোর শেয়ারে পতন হওয়ার পর সাবিত্রী জিন্দলের সম্পত্তি বৃদ্ধির পরিমাণই বেশি।
সাবিত্রী জিন্দালের কোটিপতি হয়ে ওঠার গল্প রূপকথার চেয়ে কম নয়। ১৯৭০ সালে জিন্দাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা শিল্পপতি ওমপ্রকাশ জিন্দালের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। ওমপ্রকাশ ছিলেন দেশের ইস্পাত সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি। নয় সন্তান, সংসার সামলে ব্যবসা করার কথা ভাবেননি কখনও। চার দেওয়ালের ভেতরেই ছিল তাঁর জীবন। কিন্তু সবকিছু বদলে যায় আচমকা। ২০০৫ সালে কপ্টার দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ওমপ্রকাশের। উত্তরপ্রদেশের সহারনপুরের কাছে তাঁর হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ে। ওমপ্রকাশের সঙ্গে মৃত্যু হয়েছিল হরিয়ানার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বংশীলালের ছেলে তথা সে সময় ওই রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী সুরেন্দ্র সিংয়েরও।
ওমপ্রকাশ নিজেও ছিলেন হরিয়ানার হিসার বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক। মৃত্যুকালে তিনি ছিলেন হরিয়ানার বিদ্যুৎমন্ত্রী। স্বামীর অকালপ্রয়াণের পরে মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে গৃহবধূ সাবিত্রীর। তিনি নিজেই স্বামীর সাম্রাজ্য সামলানোর দায়িত্ব তুলে নেন কাঁধে। ব্যবসার খুঁটিনাটি শিখে নেন খুব তাড়াতাড়ি। সে সময় সাবিত্রী জিন্দালের বয়স ছিল ৫৫ বছর। তিল তিল করে গড়ে তোলা স্বামীর ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের গায়ে কোনও আঁচ লাগতে দেননি তিনি। উল্টে ব্যবসাকে আরও এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।
ফোর্বস ম্যাগাজিনের একসময়ের রিপোর্টে দেশের ধনীতম শিল্পপতিদের তালিকায় চতুর্থ স্থানে ছিলেন সাবিত্রী জিন্দাল। কিন্তু এখন তাঁর সম্পত্তির বহর আরও বেড়েছে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, গত দুই বছরে তাঁর সম্পদ বেড়েছে ৮৭ শতাংশ। অবশ্য এই গোটা সময়ে উইপ্রোর শেয়ারে ধস নামায় আজিম প্রেমজির সম্পদের পরিমাণ ৪২ শতাংশ কমেছে। ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স সম্প্রতি একটি পরিসংখ্যান পেশ করেছে। সেটি অনুসারে, দুই বছর আগে প্রেমজি ভারতের তৃতীয় ধনী ব্যক্তি ছিলেন। তার থেকে এগিয়ে ছিলেন মুকেশ আম্বানি ও গৌতম আদানি। কিন্তু গত দুই বছরে উইপ্রোর সময় খারাপ যাওয়ায় প্রেমজির সম্পদও কমেছে। এগিয়ে গেছেন সাবিত্রী জিন্দাল।