ভারতের নতুন সিসমিক মানচিত্রে যোগ হল ‘জোন-৬’। হিমালয় সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ, কলকাতা জোন-৩-এ। দেশের ৬১% অঞ্চলকে ভূমিকম্পপ্রবণ ঘোষণা করেছে ভূতত্ত্ববিদরা।

ছবি- এআই
শেষ আপডেট: 30 November 2025 08:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলগুলি চিহ্নিত করার জন্য এতদিন যে 'সিসমিক জোন'-এর তালিকা ব্যবহার করা হতো, তাতে এবার বিরাট পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে ভারতকে জোন-২ থেকে জোন-৫ পর্যন্ত চারটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছিল। কিন্তু ভূতত্ত্ববিদরা মানচিত্রটি পরিমার্জন করে একটি নতুন অঞ্চল যোগ করেছেন—যার নাম 'জোন-৬'। এই নতুন সিসমিক মানচিত্র অনুযায়ী গোটা হিমালয় পর্বতমালাকে এখন 'সর্বোচ্চ ভূমিকম্পপ্রবণ' এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
উদ্বেগের বিষয় হল, নতুন এই মানচিত্র অনুসারে বিরাট ভারত ভূখণ্ডের ৬১ শতাংশ অঞ্চলই এখন 'ভূমিকম্পপ্রবণ' হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
জোন-২: দাক্ষিণাত্যের মালভূমি অঞ্চল ও দেশের পূর্ব উপকূলের কিছু এলাকা।
জোন-৩: মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে এমন অঞ্চল। কলকাতা ছাড়াও চেন্নাই, মুম্বই, পুনে, লখনউয়ের মতো বড় শহরগুলি এর আওতাভুক্ত।
জোন-৪ (হাই ড্যামেজ রিস্ক জোন): দেশের রাজধানী দিল্লি, জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ, হিমাচলপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, সিকিম এবং গাঙ্গেয় সমতলের অনেকটা অংশ।
জোন-৫ (হায়েস্ট রিস্ক জোন): গোটা কাশ্মীর উপত্যকা, উত্তর-পূর্ব ভারত, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং কচ্ছের রান অঞ্চল।
কেন হিমালয় 'জোন-৬'-এর আওতায়?
ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ভোপাল (আইজার)-এর অধ্যাপক জ্যোতির্ময় মল্লিক এবং ভূতত্ত্ববিদ জ্ঞানরঞ্জন কয়াল এই পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন, নতুন মানচিত্র তৈরি করার সময় আগের তুলনায় অনেক বেশি সিসমিক স্টেশন থেকে তথ্য পাওয়া গেছে। এই বিপুল তথ্য বিশ্লেষণের কারণেই পুরোনো মানচিত্রের পরিমার্জন প্রয়োজন হয়েছে।
অধ্যাপক কয়াল বলেন, ভূতত্ত্বের দিক থেকে হিমালয়কে একটি 'আলাদা প্রতিষ্ঠান' বলা যায়। ইন্ডিয়ান প্লেট এবং ইউরেশিয়ান প্লেটের মধ্যে সংঘর্ষে হিমালয়ের সৃষ্টি। হিমালয়ের নীচে তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চ্যুতিরেখা (Fault Line) রয়েছে:
মেন সেন্ট্রাল থ্রাস্ট: যেখানে ইন্ডিয়ান ও ইউরোশিয়ান প্লেটের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।
মেন ফ্রন্টাল থ্রাস্ট: হিমালয়ের পাদদেশ ও গাঙ্গেয় সমভূমির সীমা নির্দেশক।
মেন বাউন্ডারি থ্রাস্ট: হিমাচলের সীমা নির্দেশক।
ভূতত্ত্ববিদরা জানাচ্ছেন, এতদিন সিসমিক ম্যাপে মধ্য হিমালয়ের যে দীর্ঘ চ্যুতিরেখাগুলো তুলনামূলকভাবে 'শান্ত' ছিল এবং যে ভূমিকম্পগুলির প্রভাব হিমালয়ের বাইরে গাঙ্গেয় সমভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারত, সেগুলিকে হিসেবের বাইরে রাখা হয়েছিল। এই নতুন মানচিত্রে সেই পুরো এলাকাই এখন 'ডেঞ্জার জোন'-এ স্থান পেল।
'৬১% ঝুঁকিপূর্ণ' — উদ্বেগের কারণ নয়?
দেশের ৬১ শতাংশ এলাকা ভূমিকম্পপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া সত্ত্বেও অধ্যাপক মল্লিক মনে করেন, এতে নতুন করে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। তিনি বলেন, "এমন নয় যে এই জায়গাগুলো নতুন করে তালিকায় ঢুকল। ওই জায়গাগুলো আগে থেকেই এমন ছিল। আমরা জানতাম না। এবার আমরা সেই অনুযায়ী নতুন বিল্ডিং প্ল্যান, ব্রিজ তৈরির সময়ে উপযুক্ত সতর্কতা অবলম্বন ইত্যাদি কাজ করতে পারব।"