আগামী ৩ ডিসেম্বর ২০২৫, সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত হতে চলা IIDEA-র কাউন্সিল অফ মেম্বার স্টেটস-এর বৈঠকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি আগামী এক বছরে সংস্থার সব কাউন্সিল সভার সভাপতিত্ব করবেন।

শেষ আপডেট: 26 November 2025 18:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: SIR-এর (SIR News) ঘোষণা হোক বা নির্বাচন পরিচালনা, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের প্রায় সবকটি বিরোধী দল একযোগে আক্রমণের মুখে ফেলেছে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar)। তাঁর মুকুটেই এবার একটি আন্তর্জাতিক পালক জুড়তে চলেছে আগামী ৩ ডিসেম্বর। আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র ও নির্বাচনী সহায়তা সংস্থা - ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেক্টোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স (International IDEA)-এর ২০২৬ সালের চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন তিনি।
আগামী ৩ ডিসেম্বর ২০২৫, সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত হতে চলা IIDEA-র কাউন্সিল অফ মেম্বার স্টেটস-এর বৈঠকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি আগামী এক বছরে সংস্থার সব কাউন্সিল সভার সভাপতিত্ব করবেন।
১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত International IDEA বিশ্বব্যাপী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি আন্তঃসরকারি সংস্থা। বর্তমানে ৩৫টি দেশ এই সংস্থার সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে যুক্ত রয়েছে। সংস্থার মূল লক্ষ্য - অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দৃঢ় গণতন্ত্র গঠন।
অনেকেই মনে করছেন এই চেয়ারপার্সনশিপ অর্জন ভারতের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা প্রমাণ করে যে ভারতের নির্বাচন কমিশন বিশ্বের অন্যতম বিশ্বাসযোগ্য এবং উদ্ভাবনী নির্বাচন পরিচালন সংস্থা (EMB-Election Management Bodies) হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। ভারত IIDEA-র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং সংস্থার নীতিনির্ধারণ, গণতান্ত্রিক আলোচনা ও বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভোটার তালিকার (Voter List) দেশ হিসেবে প্রায় একশো কোটি ভোটার, সুসংহত ও স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা - এসবকে কাজে লাগিয়ে জ্ঞানেশ কুমার আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক পরিমণ্ডলে নতুন দিশা দেখানোর সুযোগ পাবেন। নির্বাচনী অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে EMB-গুলির মধ্যে পেশাদার নেটওয়ার্ক আরও মজবুত হবে এবং প্রমাণভিত্তিক নির্বাচনী সংস্কার ত্বরান্বিত হবে।
IIDEM - ভারতের নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল উদাহরণ। সংস্থাটি ২৮টি দেশের সঙ্গে MoU স্বাক্ষর করেছে এবং ১৪২টি দেশের ৩,১৬৯ জন নির্বাচন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
আগামী দিনে ECI ও IIDEA যৌথভাবে বিভিন্ন কর্মশালা, গবেষণা প্রকল্প এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে ভুয়ো তথ্য প্রচার, নির্বাচন সহিংসতা এবং ভোটার আস্থার সংকটের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষমতা আরও বাড়াবে। পাশাপাশি, ভারতের নির্বাচনী প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক উদ্ভাবনের সাফল্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সামনে তুলে ধরার উদ্যোগও জোরদার হবে।