একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয় যে দুই ভারতীয় নির্মাণশ্রমিককে চাকরির প্রলোভন দিয়ে রাশিয়ায় ডেকে নিয়ে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, অন্তত আরও ১৩ জন ভারতীয় একইভাবে রুশ সেনার হয়ে যুদ্ধ করছেন।
.jpg.webp)
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 11 September 2025 13:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের (Russia-Ukraine War) আবহে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনল ভারতের বিদেশমন্ত্রক। কাজের খোঁজে রাশিয়ায় যাওয়া যুবকদের ভুলিয়ে রুশ সেনায় ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং জোর করেই যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে। এই অবস্থায় রাশিয়ায় যাওয়া ভারতীয়দের সতর্ক করল দিল্লি (Delhi Warns Indians)।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারত সরকার গত এক বছরে একাধিকবার সতর্কবার্তা দিয়েছে যে যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মস্কো (Moscow) ও দিল্লি – দুই জায়গাতেই যোগাযোগ করা হয়েছে। নয়াদিল্লির দাবি, ভারতীয় নাগরিকদের মুক্তি দিতে এবং এই নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে রাশিয়াকে নির্দেশ দেওয়া উচিত। পাশাপাশি, যেসব পরিবার এই পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়েছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
এই ঘটনাটি সামনে আসে যখন একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয় যে দুই ভারতীয় নির্মাণশ্রমিককে চাকরির প্রলোভন দিয়ে রাশিয়ায় ডেকে নিয়ে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, অন্তত আরও ১৩ জন ভারতীয় একইভাবে রুশ সেনার হয়ে যুদ্ধ করছেন।
বর্তমানে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক গভীর হলেও, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে মস্কো। তবুও নয়াদিল্লি রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভারতীয়দের নিরাপত্তাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠেছে। এই যুদ্ধ শুধু ইউক্রেনের নয়, গোটা বিশ্বের জন্য বড় মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে রাশিয়ার সেনা অভিযান চলছেই, অন্যদিকে ইউক্রেন পশ্চিমা দেশগুলির কাছ থেকে ক্রমাগত সামরিক ও আর্থিক সাহায্য পাচ্ছে।
পশ্চিমা দেশগুলি রাশিয়ার ওপর কড়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলি ইউক্রেনকে উন্নত অস্ত্র, ট্যাঙ্ক, ড্রোন ও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। রাশিয়া অভিযোগ করেছে যে এই সহায়তার ফলে যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
অন্যদিকে, মস্কো জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের প্রচেষ্টা থামাতেই এই অভিযান শুরু করেছে। তবে দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা বহুবার হলেও এখনো স্থায়ী সমাধানের রাস্তা খুঁজে পাওয়া যায়নি।
বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ছে। তেলের দাম বেড়ে গেছে, খাদ্যশস্যের সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গম ও সূর্যমুখী তেলের রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক দেশ খাদ্য সংকটে পড়েছে। এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ কবে শেষ হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান না হলে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে।