অদিতি কুকরেজার ছবি
শেষ আপডেট: 18 March 2025 15:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে। তবুও হন্যে হয়ে কাজের খোঁজ করলেও কোনও জায়গা থেকেই ডাক পাননি। ২০০০টিরও বেশি পদে আবেদন করেও লাভের লাভ তো হয়নি, উল্টে সব জায়গা থেকেই নানা কারণ দেখিয়ে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। শেষমেশ দেশে ফিরে বিদেশে পড়তে যাওয়া পড়ুয়াদের (Students) সামনে চাকরির (Job) ভয়াবহ অবস্থা তুলে ধরলেন রায়পুরের (Raipur) বাসিন্দা এক ভারতীয় তরুণী (Indian Student)।
অদিতি কুকরেজা (Aditi Kukreja) নামে ওই ছাত্রী নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে বিষয়টি জানিয়েছেন। তরুণীর স্পষ্ট অভিযোগ, হন্যে হয়ে কাজের খোঁজ করলেও প্রতিবারই তাঁকে নিরাশ হতে হয়েছে। পোস্টটিতে কঠিন চাকরির বাজার সম্পর্কে তাঁর সোজাসাপটা মন্তব্য বেশ নজর কেড়েছে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের।
লন্ডনের (London) কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাস করে ২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকে চাকরির খোঁজ শুরু করি। সেই খোঁজখবর এখনও চললেও চাকরি মেলেনি বলেই জানিয়েছেন তরুণী। তিনি জানান, "আমি অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করেছি। খুঁটিয়ে বই পড়েছি। কিন্তু যখন চাকরির কথা এল, তখন এসব শিক্ষা কিছুই কাজে লাগছে না। আমি অনলাইনে ২০০০-এরও বেশি চাকরির জন্য আবেদন করেছি। প্রত্যাখ্যানের পর প্রত্যাখ্যান।"
এরপরেও একেবারে হতাশ না হয়ে কুকরেজা নিজের সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন স্থানীয় রেস্তোরাঁ, বার এবং ক্যাফেতে ঘুরে ঘুরে ১০০ টিরও বেশি মানুষের হাতে নিজের সিভির প্রিন্ট আউট দিলেও কাজের কাজ হয়নি।
ইনস্টাগ্রামে অদিতি জানিয়েছেন, যে ম্যাকডোনাল্ডসও তাঁকে কাজে নিতে অস্বীকার করেছে। যা তাঁর কাছে অত্যন্ত লজ্জাজনক বলেই তরুণী জানিয়েছেন, “আমি ম্যাকডোনাল্ডসে শিফট লিডার পদের জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু সেখানেও আমাকে সুযোগ দেওয়া হয়নি।"
View this post on Instagram
বর্তমানে রায়পুরের বাড়িতে ফিরে এসেছেন অদিতি। তিনি জানান, লন্ডনে চাকরি খোঁজা ছেড়ে বাড়ি আসার সিদ্ধান্ত এতটা সহজ ছিল না। তবে ভবিষ্যতের কথা ভেবেই দেশে ফিরেছেন তিনি। জানান, সবসময় বিশ্বাস করি যখন একটি দরজা বন্ধ হয়, তখন আরেকটি দরজা খুলে যায়। সে কারণেই নতুন অপেক্ষায় রয়েছি।
ইনস্টাগ্রামের পোস্ট ভাইরাল হতেই উপচে পড়েছে কমেন্ট। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, "এটা লজ্জাজনক নয়, তুমি তোমার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছ। তোমার জন্য ভাল কিছু অপেক্ষা করছে। শুধু অপেক্ষা করো।"
বেশ কয়েকজন পড়ুয়া জানিয়েছেন, তাঁরাও দিনের পর দিন লন্ডনে থাকলেও একই দশা হয়েছে। উল্লেখ্য, ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিদেশে উড়ে যাওয়া জন্য যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে চলেছে। যার মূল লক্ষ্য নেট মাইগ্রেশন কমানো।