২৮ এপ্রিল পুলিশ এসে তাঁকে তুলে নিয়ে যায় ভিসা বাতিল হওয়ায়। ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয় পাকিস্তানে।

রকশনদা রশিদ।
শেষ আপডেট: 2 August 2025 09:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রকশনদা রশিদ। ৬২ বছর বয়সি এই পাকিস্তানি মহিলাকে গত ২৮ এপ্রিল পাঞ্জাবের ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে স্বদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিল জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ ও বিএসএফ। পহেলগাম হত্যাকাণ্ডের পর পাকিস্তানিদের ভিসা দেওয়া বন্ধ রাখা হলেও এই প্রবীণার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদেশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তাঁকে ভারতে পুনরায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়া হবে তাঁকে, জম্মু-কাশ্মীর-লাদাখ হাই কোর্টে জানিয়েছেন ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।
আসলে ২৮ এপ্রিল ইচ্ছার বিরুদ্ধে পাকিস্তানে ফিরে যেতে হলেও তার আগে টানা ৩৮ বছর ভারতে ছিলেন ওই মহিলা। পহেলগাম হত্যাকাণ্ডের পর ভারত সরকার পাকিস্তানিদের ভিসা বাতিল করে দেয়। তাতেই বিপাকে পড়েন জম্মুর গৃহবধূ রকশনদা।
৩৮ বছর আগে ভারতে বেড়াতে এসে তিনি আর পাকিস্তানে ফিরে যাননি। ট্যুরিস্ট ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে থেকে যান। জম্মু কাশ্মীরের এক সরকারি কর্মচারীর সঙ্গে বিয়ে হয়। তাঁদের তিন সন্তান।
২৮ এপ্রিল পুলিশ এসে তাঁকে তুলে নিয়ে যায় ভিসা বাতিল হওয়ায়। ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয় পাকিস্তানে। সেই থেকে থেকে তাঁর স্বামী-সন্তানেরা চেষ্টা চালাচ্ছেন কীভাবে তাঁকে ফিরিয়ে আনা যায়। এই নিয়ে মামলায় জম্মুর নিম্ন আদালত দশ দিনের মধ্যে ওই পাকিস্তানি মহিলাকে ভারতে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেয়। নিম্ন আদালতের বক্তব্য, মহিলা এ দেশে ঘর সংসার করছেন জেনেও ভারত সরকার ৩৮ বছর ধরে তাঁর ভিসা নবীকরণ করেছে। এখন তিনি সংসার ছেড়ে থাকবেন কীভাবে?
সেই মামলায় হাই কোর্ট বলেছে, নিয়ম মেনে রকশনদাকে আগের মতোই ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়া উচিত। কেন্দ্রীয় সরকার উচ্চ আদালতের নির্দেশ মেনে নিয়ে আর্জি জানায়, এটা যেন ব্যতিক্রম হিসাবেই দেখা হয়। কেন্দ্রের আর্জি মেনে আদালত রায়ে বলেছে রকশনদাকে অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে হাতিয়ার করে বিতাড়িত কেউ ভিসা দাবি করতে পারবেন না। এখন অপেক্ষা কবে মহিলা জম্মুর বাড়িতে ফেরেন। নিজের সংসারে 'পর্যটক' হিসাবে থাকতে হবে।