পাকিস্তানের দাবি, ভারত একতরফা সিদ্ধান্তে ১৯৬০ সালের ঐতিহাসিক সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করেছে, যা আন্তর্জাতিক চুক্তির লঙ্ঘন।

শেষ আপডেট: 27 June 2025 11:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিঠির খেলায় কিছু হবে না, সিদ্ধান্ত বদলাবে না। সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty) নিয়ে পাকিস্তানের একের পর এক চিঠি ও হুমকির জবাবে ভারতের অবস্থান বরাবরই স্পষ্ট।
বৃহস্পতিবার জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাটিল বলেন, ‘পাকিস্তান যতবারই চিঠি পাঠাক না কেন, এটা একরকম ফর্মালিটি ছাড়া আর কিছু নয়। আমাদের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন আসবে না।’ তিনি সাফ জানান, ভারতের জল কোথাও যাচ্ছে না। চুক্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কোনও পরিকল্পনাও নেই।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী বিলাওল ভুট্টো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ভারত যদি আমাদের ন্যায্য জল অধিকার না দেয়, তাহলে যুদ্ধ অনিবার্য।’ সেই প্রেক্ষিতেই ভারতের এই প্রতিক্রিয়া।
জলশক্তি মন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী রাজনৈতিক স্বার্থে প্রায়ই এই ধরনের ‘রক্ত আর জল’ কথাবার্তা বলেন। কিন্তু আমরা এই ধরনের ফাঁকা হুমকিতে ভয় পাই না।’
পাকিস্তান দাবি করছে, ভারত একতরফা সিদ্ধান্তে ১৯৬০ সালের ঐতিহাসিক সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করেছে, যা আন্তর্জাতিক চুক্তির লঙ্ঘন। এর উত্তরে সি আর পাটিল বলেন — ‘আমাদের অগ্রাধিকার নিরাপত্তায়। চুক্তি যখন স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তখন সেটিকে আটকে রাখাই যুক্তিযুক্ত।’
দুই দেশের মধ্যে চলতি এই উত্তেজনার সূচনা ২২ এপ্রিলে, যেখানে কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলায় বহু ভারতীয় পর্যটক নিহত হন। তার ঠিক পরেই এই নৃশংসতার জবাবে ভারত সিন্ধু চুক্তি স্থগিত করে এবং পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়।
এরপর, ৭ মে ভারত শুরু করে ‘অপারেশন সিঁদুর’। পাকিস্তানে জঙ্গি ঘাঁটিগুলিতে নিশানা করে এই অপারেশনের জেরে চার দিনব্যাপী সীমান্ত সংঘর্ষ চলে, যা ১০ মে দু’দেশের সমঝোতার মাধ্যমে থামে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারত বিশ্বব্যাঙ্কের নিযুক্ত নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ মিশেল লিনোকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, ‘কিশনগঙ্গা’ ও ‘রতলে’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ঘিরে বিরোধ সংক্রান্ত সব আলোচনা আপাতত স্থগিত রাখা হোক।
ভারতের লক্ষ্য — পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলির উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কায়েম করা, চুক্তির নিয়ম মেনেই। বিশ্বব্যাঙ্ক এখনও এই অনুরোধে তেমন কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
একদিকে যুদ্ধের হুমকি, অন্যদিকে আলোচনার কথা — এই দ্বৈত সুরেই বক্তব্য রেখেছেন পাকিস্তানের পিপলস পার্টির নেতা বিলাওল ভুট্টো। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যোগাযোগ না থাকলে, হিংসা বাড়বে।’ তাঁর দাবি, ভারত আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানকে Financial Action Task Force-এ ব্ল্যাক লিস্ট করাতে লবিবাজি করছে।