ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুট দাবি করেছেন, আমেরিকার শুল্ক নীতির জেরে ইউক্রেন-যুদ্ধ কৌশল নিয়ে রাশিয়ার থেকে ব্যাখ্যা চাইতে বাধ্য হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 26 September 2025 18:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছেন ন্যাটো প্রধান (NATO Chief)। বলেছেন, আমেরিকা শুল্ক চাপানোর পর তিনি ফোন করেছিলেন ভ্লাদিমির পুতিনকে (Vladimir Putin)। এই দাবির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রতিক্রিয়া দিল ভারত (India)। নয়াদিল্লি স্পষ্ট বলেছে, ন্যাটো প্রধানের এই বক্তব্য ভুল এবং ভিত্তিহীন।
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুট দাবি করেছেন, আমেরিকার শুল্ক নীতির জেরে ইউক্রেন-যুদ্ধ (Russia Ukraine War) কৌশল নিয়ে রাশিয়ার থেকে ব্যাখ্যা চাইতে বাধ্য হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কার্যত ঘাবড়ে গিয়েই দিল্লি এখন লাগাতার পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলছে। কিন্তু বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) বক্তব্য, “মার্ক রুট যে ফোনালাপের দাবি করেছেন তা সম্পূর্ণ ভুল। কখনই প্রধানমন্ত্রী মোদী রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ইউক্রেন নিয়ে কোনও কৌশল ব্যাখ্যা করতে বলেননি। এমন কোনও কথোপকথনও ঘটেনি।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ন্যাটোর মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থার নেতৃত্বের উচিত দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা। এমন কল্পনাপ্রসূত বা অসতর্ক মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়, যা কোনও দেশের প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে ভ্রান্ত বার্তা দেয়।
রুটের বক্তব্য অনুযায়ী, আমেরিকার এই পদক্ষেপ ঘুরপথে রাশিয়াকেও চাপের মুখে ফেলছে। তিনি দাবি করে বলেন, “মোদী পুতিনকে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন একই সঙ্গে কৌশলটাও বোঝার চেষ্টা করছেন। কারণ আমেরিকার শুল্কনীতিতে তাঁর দেশ ক্ষতিগ্রস্ত।”
গত মাসেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক এবং রাশিয়া থেকে আমদানি করা তেলের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল, রাশিয়ার থেকে জ্বালানি কেনা থেকে ভারতকে বিরত রাখা। ওয়াশিংটনের যুক্তি, রাশিয়া থেকে আমদানি মানেই ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে অর্থসাহায্য করা।
ভারতের পক্ষ থেকে অবশ্য এই পদক্ষেপকে ‘অন্যায্য’ বলা হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, বিপুল জনসংখ্যার দেশে সাশ্রয়ী শক্তি সরবরাহ নিশ্চিত করতে রাশিয়ার তেল অপরিহার্য। একই সঙ্গে দিল্লির অভিযোগ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন-সহ বহু ন্যাটো সদস্যই এখনও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করছে, অথচ ভারতকে আলাদা করে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
সব চাপের মাঝেও ট্রাম্প ও মোদী প্রকাশ্যে একে অপরের সঙ্গে সৌহার্দ্যের বার্তা দিয়েছেন। ট্রাম্প সম্প্রতি মোদীকে ‘ভাল বন্ধু’ বলেছেন, আর প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে ভারত–আমেরিকা সম্পর্কের নতুন দিগন্ত খুলবে বলে তিনি আশাবাদী।