শ্রীলঙ্কার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কূটনৈতিক মহলে চর্চা হচ্ছে। পাঁচ দিন আগে আইরিস দেনা নামে ইরানের একটি জাহাজকে মার্কিন সাবমেরিন ধ্বংস করে। জাহাজের উদ্ধার হওয়া নাবিকদের আশ্রয় দেয় শ্রীলঙ্কা। আমেরিকা এরপর কলম্বোর উপর চাপ তৈরি করেছে ওই নাবিকদের ইরানের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 7 March 2026 08:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরলের কোচিতে (Kerala Kochi) নোঙর করেছে একটি ইরানি জাহাজ (Iranian Warship)। আইরিস লেভান নামের ওই জাহাজটির ১৮০জন নাবিক এখন কোচিতে ভারতীয় নৌসেনার (Indian Navy) অতিথিশালায় রয়েছেন।
অন্যদিকে, আইরিস বুশের (Irish Bush) নামে একটি ইরানি জাহাজকে তাদের বন্দরে নোঙর করার অনুমতি দিয়েছে শ্রীলঙ্কা (Sri Lanka)। দেশটির প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দেশেনায়কে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে জানিয়েছেন ইরানের জাহাজটিকে ত্রিঙ্কোমালি বন্দরে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। জাহাজটির ২০৮ জন নাবিক নিরাপদে আছেন।
সূত্রের খবর, শ্রীলঙ্কার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কূটনৈতিক মহলে চর্চা হচ্ছে। পাঁচ দিন আগে আইরিস দেনা (Irish Dena Warship) নামে ইরানের একটি জাহাজকে মার্কিন সাবমেরিন ধ্বংস করে। জাহাজের উদ্ধার হওয়া নাবিকদের আশ্রয় দেয় শ্রীলঙ্কা। আমেরিকা এরপর কলম্বোর উপর চাপ তৈরি করেছে ওই নাবিকদের ইরানের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না। মার্কিন সেনারা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায়। জানা গিয়েছে, শ্রীলঙ্কার বাম মনস্ক রাষ্ট্রপতি এখনও আমেরিকাকে সম্মতি দেননি।
এমন মার্কিন চাপের মুখে দ্বিতীয় একটি ইরানি জাহাজকে শ্রীলঙ্কা সরকারের তাদের বন্দরে নোঙর করার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে সরকারি সূত্রের খবর, কোচিতে ইরানের জাহাজটিকে নোঙর করার অনুমতি দেওয়ার আগে নৌ সেনা দফতর সরাসরি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমতি চায় নৌ বাহিনী। নয়াদিল্লি ইরানের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। তবে শ্রীলঙ্কা এবং ভারতে নোঙ্গর করা ইরানি জাহাজগুলি যুদ্ধজাহাজ নয়।
জানা গিয়েছে, ইরান সরকারের তরফে দু দফায় ভারত সরকারকে বার্তা পাঠিয়ে বলা হয় তাদের জাহাজটিকে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব সেটি নোঙর করার অনুমতি দেওয়া হোক।
শ্রীলঙ্কার ত্রিঙ্কোমালিতে নোঙর করা ইরানি জাহাজটিতেও যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট টেলিভিশন ভাষণে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের প্রটোকল মেনেই ইরানের জাহাজটিকে তাদের আশ্রয় দিতে হয়েছে। এর সঙ্গে আরব দুনিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কোনও সম্পর্ক নেই।