সরকারের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, গুজব বা যাচাই না করা তথ্যের উপর ভরসা না করে নাগরিকদের স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে।

দেশে পর্যাপ্ত মজুত পেট্রোল ও ডিজেল
শেষ আপডেট: 14 March 2026 17:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এলপিজি নিয়ে টানাপড়েন চলছে, গোটা দেশেই চিত্রটা কমবেশি একই। আরব দুনিয়ায় চলা সংঘাতের জেরে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও পেট্রোল ও ডিজেল নিয়ে চিন্তার কারণ নেই, দেশে পর্যাপ্ত মজুত (Petrol diesel availability India) রয়েছে বলে আশ্বস্ত করল কেন্দ্রীয় সরকার। পাশাপাশি নাগরিকদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, আতঙ্কে জ্বালানি মজুত করা বা আলগা পাত্রে পেট্রোল-ডিজেল সংগ্রহ করা বিপজ্জনক এবং তা এড়িয়ে চলা উচিত (fuel hoarding India advisory)।
শনিবার এক নির্দেশিকা জারি করে পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক (Ministry of Petroleum fuel warning) জানায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খুচরো জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্রগুলিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পেট্রোল ও ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে। তাই গুজবে কান না দিয়ে স্বাভাবিক নিয়মেই জ্বালানি সংগ্রহ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রকের তরফে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ পোস্ট করে বলা হয়েছে, “দেশের সমস্ত খুচরো বিক্রয়কেন্দ্রে পেট্রোল ও ডিজেল পর্যাপ্ত রয়েছে। মানুষকে অনুরোধ করা হচ্ছে, আলগা বা অনিরাপদ পাত্রে জ্বালানি নেওয়া বা মজুত না করতে, কারণ এতে গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।”
তামিলনাড়ুতে ঘটনার পর সতর্কবার্তা
সরকারি এই পরামর্শের পেছনে রয়েছে একটি নির্দিষ্ট ঘটনা। জানা গিয়েছে, তামিলনাড়ুর একটি পেট্রোল পাম্পে আলগা পাত্রে পেট্রোল দেওয়া হচ্ছিল। যা নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের সামিল।
মন্ত্রক জানিয়েছে, বিষয়টি নজরে আসার পরই ওই পেট্রোল পাম্পের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট খুচরো বিক্রয়কেন্দ্রের লাইসেন্স আপাতত স্থগিত করা হয়েছে এবং উপযুক্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে দেশের সমস্ত জ্বালানি বিক্রেতাকে কড়াভাবে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, জ্বালানি বিক্রির ক্ষেত্রে কোনওরকম নিয়ম লঙ্ঘন হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ
সরকারি এই ব্যাখ্যা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ঘিরে নানা গুজব ছড়িয়েছে। আমেরিকা, ইরান এবং ইজরায়েলের সংঘাতের আবহে এই পথ দিয়ে জ্বালানি পরিবহণ ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দেশের কয়েকটি জায়গায় আতঙ্কে পেট্রোল-ডিজেল কেনার হিড়িকও দেখা গিয়েছে। যদিও সামগ্রিকভাবে দেশে জ্বালানির মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে বলে কেন্দ্র জানিয়েছে।
সরকারের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, গুজব বা যাচাই না করা তথ্যের উপর ভরসা না করে নাগরিকদের স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে।
এলপিজি সরবরাহ নিয়েও আশ্বাস
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কিছুদিন আগে এলপিজি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ওই অঞ্চলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশে কিছু সময়ের জন্য সিলিন্ডারের ঘাটতি দেখা দেয়। তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই ভারতগামী এলপিজি বোঝাই দুটি ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী পেরিয়েছে ভারতের দিকে রওনা দিয়েছে। এর মধ্যে প্রথম জাহাজ 'শিবালিক' আগেই নিরাপদে প্রণালী পার হয়ে সমুদ্রে পৌঁছে গিয়েছে এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর নজরদারিতে এগোচ্ছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় এলপিজি বাহক জাহাজ 'নন্দা দেবী'ও সফলভাবে প্রণালী অতিক্রম করেছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।
এই জাহাজে প্রায় ৪৬ হাজার মেট্রিক টন তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি রয়েছে। ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রের মতে, এসব উদ্যোগের ফলে ভারতীয় জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।