ভুটানের সঙ্গে ভারতের এটাই প্রথম রেল যোগাযোগ। ২০০৫ সালে পাঁচটি প্রস্তাবিত রুট নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হলেও এতদিন কাজ শুরু হয়নি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 1 October 2025 14:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেপালের (Nepal) পর এবার ভুটান (Bhutan)। প্রায় দুই দশক ধরে আলোচনায় থাকা ভারত-ভুটান রেল যোগাযোগের (India-Bhutan Rail) পরিকল্পনা এবার বাস্তবায়নের পথে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ও বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি ঘোষণা করেছেন, ভুটান সংযোগে তৈরি হচ্ছে প্রথম রেললাইন (Railtracks)।
দুটি প্রকল্পের কাজ হচ্ছে — অসমের কোকরাঝাড় থেকে ভুটানের গেলেপু (৬৯ কিমি) এবং উত্তরবঙ্গের বানারহাট থেকে সামচে (২০ কিমি)। মোট খরচ ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকায় কোকরাঝাড়–গেলেপু রেললাইন তৈরি হবে চার বছরে, আর ৫৭৭ কোটির বানারহাট–সামচে রেললাইন শেষ হবে তিন বছরে। সম্পূর্ণ খরচ বহন করবে ভারত।
ভুটানের প্রথম রেল যোগাযোগ
ভুটানের সঙ্গে ভারতের এটাই প্রথম রেল যোগাযোগ। ২০০৫ সালে পাঁচটি প্রস্তাবিত রুট নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হলেও এতদিন কাজ শুরু হয়নি। গত বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভুটান সফরে কোকরাঝাড়–গেলেপু ও বানারহাট–সামচে রেললাইন নিয়ে নতুন করে চুক্তি হয়।
বিদেশ সচিব মিশ্রির কথায়, “গেলেপু হচ্ছে ‘মাইন্ডফুলনেস সিটি’র কেন্দ্রবিন্দু। ভুটানের রাজার কল্পিত এই প্রকল্পকে ভারত পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। অন্যদিকে সামচে গড়ে উঠছে শিল্পনগরী হিসেবে। দুই এলাকাই ভুটানের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক কেন্দ্র।”
রেল প্রকল্পের বিশেষত্ব
কোকরাঝাড়–গেলেপু রেললাইনে থাকবে ছ’টি স্টেশন, দুটি ভায়াডাক্ট, ২৯টি বড় সেতু, ৬৫টি ছোট সেতু ও দুটি গুডস শেড।
বানারহাট–সামচে রেললাইনে থাকবে দুটি স্টেশন, একটি বড় সেতু, ২৪টি ছোট সেতু, একটি ফ্লাইওভার ও ৩৭টি আন্ডারপাস।
রেলপথ চালু হলে ভুটানের খনিজসহ নানা রপ্তানি পণ্য সরাসরি ভারতের বন্দরে পৌঁছতে সময় অনেকটাই বাঁচবে। পর্যটনেও গতি আসবে, বিশেষ করে গেলেপুর ইকো-ট্যুরিজম প্রকল্পে।
কৌশলগত গুরুত্ব
সামচে থেকে মাত্র ৭০ কিমি দূরে শিলিগুড়ি করিডর যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। উত্তর-পূর্ব ভারতের একমাত্র স্থলপথ সংযোগ এই করিডর দিয়েই। ২০১৭ সালের ডোকলাম সংঘাতের অভিজ্ঞতার পর এই করিডরের নিরাপত্তা ভারতের কাছে অতি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ভুটান পর্যন্ত রেলপথ তৈরি হলে উত্তর-পূর্বে সেনা সরবরাহ ও জরুরি যোগাযোগ আরও সুরক্ষিত হবে।
সীমান্তে পরিকাঠামো জোরদার
২০১৪-র পর থেকে উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলিতে রেল-সড়ক অবকাঠামোয় ব্যাপক জোর দিয়েছে কেন্দ্র। অরুণাচল, মণিপুর, মিজোরাম ইতিমধ্যেই রেলপথে যুক্ত। এবার ভুটান পর্যন্ত রেল সম্প্রসারণে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দুই দিকেই নতুন দিগন্ত খুলবে।
ভুটানের রেল যোগাযোগের এই সূচনা শুধু দুই দেশের সম্পর্ক মজবুত করবে না, উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্যও এটি এক গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা-কবচ হয়ে উঠবে।