জাতিসংঘকে পিছনে ফেলার সম্ভাবনা নিয়ে তৈরি জল্পনার মাঝে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিসে’র প্রথম বৈঠকে অবজারভার দেশ হিসেবে যোগ দিল ভারত। ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত এই বৈঠকে প্রায় ৫০টি দেশ অংশ নেয়।

বোর্ড অফ পিসের বৈঠক
শেষ আপডেট: 20 February 2026 07:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক সপ্তাহ আগেই জানানো হয়েছিল, আমেরিকার নতুন ‘বোর্ড অব পিসে’ (Board of Peace) যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ খতিয়ে দেখছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA)। সেই পর্যালোচনা এখনও চলছে। কিন্তু তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রথম বৈঠকে অবজারভার দেশ হিসেবে হাজির রইল ভারত। প্রতিনিধিত্ব করলেন ভারতীয় দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নামগ্যা সি খাম্পা (Namgya C Khampa)।
ট্রাম্পের নতুন সংস্থা, জাতিসংঘের প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার স্বপ্ন
দাভোসের ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামে (World Economic Forum, Davos) গত মাসে ‘বোর্ড অব পিস’ ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ‘সবাই এই সংস্থার অংশ হতে চাইছে।’ শুরুতে লক্ষ্য ছিল ইজরায়েল-হামাস (Israel-Hamas) সংঘর্ষে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ, গাজা পুনর্গঠন আর প্রশাসনিক সহায়তা। কিন্তু ইতিমধ্যেই সেই লক্ষ্য বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। অনেকে বলছেন, ভবিষ্যতে জাতিসংঘের বিকল্প ক্ষমতাকাঠামো হিসেবেও উঠে আসতে পারে এই বোর্ড।
বৈঠকটি হয় মার্কিন ইনস্টিটিউট অব পিসে (US Institute of Peace)। প্রায় ৫০টি দেশ অংশ নেয়। এর মধ্যে আজারবাইজান, মিশর, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, ইসরায়েল, জর্ডন, সৌদি আরব, তুর্কি, ইউএই-সহ মোট ২৭টি দেশ বোর্ডের পূর্ণ সদস্য। ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো দেশগুলি অবজারভার।
দাভোসের উদ্বোধনী আয়োজনে যায়নি ভারত। তাই বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রন্ধির জয়সওয়াল (Randhir Jaiswal) গত ১২ ফেব্রুয়ারি বলেন, “আমাদের কাছে আমন্ত্রণ এসেছে। আমরা প্রস্তাবটা রিভিউ করছি। ভারত সবসময় পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে সমর্থন করে।”
তবু প্রথম বৈঠকে উপস্থিতি, বার্তা স্পষ্ট
পূর্ণ সদস্য নয় কিন্তু আলোচনার টেবিলে ভারত অংশ নিল। কূটনৈতিক মহলের মতে, “যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি, কিন্তু ভারত বোর্ডটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে—এই বার্তা এখান থেকে স্পষ্ট।”
বৈঠকের ফলাফল ৭ বিলিয়ন ডলার, হাজার হাজার সেনা, আর ট্রাম্পের বার্তা
বৈঠকে ট্রাম্প ঘোষণা করেন কাজাখস্তান, আজারবাইজান, ইউএই, মরক্কো, বাহরিন, কাতার, সৌদি আরব, উজবেকিস্তান ও কুয়েত মিলিয়ে মোট ৭ বিলিয়ন ডলার তুলে গাজাকে দেওয়া হবে পুনর্গঠনের জন্য। আমেরিকা দেবে ১০ বিলিয়ন ডলার, যদিও সেই অর্থ ঠিক কী কী কাজে খরচ হবে তা স্পষ্ট করা হয়নি।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনীর কম্যান্ডার মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্স বলেন, 'মরক্কো, কাজাখস্তান, কসোভো ও আলবেনিয়া হাজার হাজার সেনা পাঠাবে গাজায়। মিশর ও জর্ডন প্রশিক্ষণ দেবে।'
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে নতুন শক্তি গড়ার অভিযোগে ট্রাম্প বললেন, ‘আমরা আবার জাতিসংঘের সঙ্গে কাজ করব। ওদের সম্ভাবনা আছে কিন্তু কাজে লাগানো হয়নি। বোর্ড অব পিস জাতিসংঘকে আরও শক্তিশালী হতে সাহায্য করবে।’ তাঁর দাবি, ‘কোনও দিন আমি থাকব না। তখন জাতিসংঘ আরও শক্তিশালী হবে, আর বোর্ড অব পিস তার সঙ্গেই কাজ করবে। জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখতে আমরা অর্থও দেব।’