শ্রীলঙ্কা ও ভিয়েতনামের মতো ভারতে কি এনার্জি লকডাউন আসন্ন? জ্বালানি সংকট ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ।
সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রস্তুত থাকবেন।

এনার্জি লকডাউন (প্রতীকী ছবি)
শেষ আপডেট: 6 April 2026 15:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যের (Middle East) যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্বজুড়ে। আমেরিকা (USA)-ইসরায়েল (Israel)-ইরান (Iran) সংঘাতের জেরে খনিজ তেল (Crude Oil) ও প্রাকৃতিক গ্যাসের (Natural Gas) সরবরাহে ধাক্কা স্পষ্ট। তারই আঁচ এসে পড়েছে ভারতে (India)। রান্নার গ্যাস বা এলপিজি (LPG) নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। বাংলাদেশ-সহ একাধিক জায়গায় ইতিমধ্যেই আংশিক লকডাউন শুরু হয়েছে। ওয়ার্ক ফ্রম হোম ঘোষণা করে জ্বালানি বাঁচাচ্ছে বহু দেশ। এসবের পর একটাই প্রশ্ন ঘুরছে, ভারতেও কি জারি হতে পারে এনার্জি লকডাউন (Energy Lockdown)?
বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ফিলিপিন্স (Philippines) এনার্জি লকডাউন চালু করেছে। বিদ্যুৎ (Power) সাশ্রয়ে বড় বড় শহরের শপিং মলে কড়াকড়ি, জ্বালানি (Fuel) কেনার উপর নিয়ন্ত্রণ—সব মিলিয়ে কঠোর সরকার।
পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পাকিস্তান (Pakistan), শ্রীলঙ্কা (Sri Lanka), বাংলাদেশ (Bangladesh), মায়ানমার (Myanmar) এবং ভিয়েতনাম (Vietnam)-এর মতো দেশে। পাকিস্তানে দু’সপ্তাহের জন্য স্কুল বন্ধ, চালু হয়েছে ওয়ার্ক ফ্রম হোম (Work From Home)। শ্রীলঙ্কায় জ্বালানি বাঁচাতে প্রতি বুধবার পাবলিক হলিডে (Public Holiday) ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশে চলছে ব্যাপক পাওয়ার কাট (Power Cut), বন্ধ স্কুল। ভিয়েতনামে জ্বালানির দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে, অপ্রয়োজনীয় যাতায়াতে কড়াকড়ি। মায়ানমারে বন্ধ পেট্রল পাম্প (Petrol Pump), চালু ‘অড-ইভন রুল’ (Odd-Even Rule)।
এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়ায় (South Asia) এখনও পর্যন্ত কিছুটা স্থিতিশীল ভারত ও চিন (China)। যদিও ভারতে এনার্জি লকডাউন নিয়ে জল্পনা একবার ছড়িয়েছিল। পরে সরকারিভাবে জানানো হয়, আপাতত এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবুও আশঙ্কা কাটছে না সাধারণ মানুষের।
ভারতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে এমন হলে প্রথম ধাক্কা আসতে পারে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায়। নির্দিষ্ট সময় ধরে পাওয়ার কাট হতে পারে, আগাম সময়সূচি জানিয়ে দেওয়া হবে নিশ্চয়ই। মল, অফিস (Office) ও দোকানের সময়সীমা কমানো হতে পারে, কমতে পারে ওয়ার্কিং আওয়ার্স (Working Hours)।
এক্ষেত্রে প্রথমে বন্ধ হতে পারে অ্যাডভার্টাইজিং লাইট (Advertising Light) ও স্ট্রিট লাইট (Street Light)-এর ব্যবহার। শিল্পাঞ্চলে (Industrial Area) জ্বালানি ব্যবহারে সীমা বেঁধে দেওয়া হতে পারে। পেট্রল-ডিজেলে (Petrol-Diesel) চালু হতে পারে রেশনিং (Rationing System)। এসি (Air Conditioner) ও হিটার (Heater) ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। ফলে গরমে একটু হলেও অস্বস্তি হবে।
এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা দিতে হবে গরমের রাজ্যগুলিকে। প্রস্তুত থাকতে হবে মানসিকভাবে।
এদিকে, ব্যক্তিগত জ্বালানি ব্যবহারের উপরও কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে সরকার। পাশাপাশি স্কুল-কলেজ (School-College), অফিসে নতুন নীতি এবং ওয়ার্ক ফ্রম হোমের দিকে ঝোঁক বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, আশঙ্কার মেঘ কিন্তু ঘনাচ্ছে। সামান্য হলেও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকুন, বলছেন অনেকেই।