জাতিসংঘের ১৯৪৮ সালের প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে ভারত জানায়, প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে পাকিস্তানকে কাশ্মীর থেকে তার সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইসলামাবাদ এখনও বেআইনিভাবে অঞ্চলটি দখল করে রেখেছে।

ভাবিকা মঙ্গলানন্দন এবং শাহবাজ শরিফ
শেষ আপডেট: 1 November 2025 13:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের 'দ্বিচারিতা' (Hypocrisy) ও 'ভণ্ডামি' তুলে ধরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (Pakistan Occupied Kashmir) চলা দমন-পীড়ন বন্ধের আহ্বান জানাল ভারত। জাতিসংঘের (UN) সাধারণ সভায় ভারত স্পষ্ট জানায়, ওই অঞ্চলে সাধারণ মানুষের গণবিক্ষোভ দমন করতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী (Pakistan Army) গুরুতরভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে।
ভারতের পক্ষ থেকে প্রথম সচিব ভাবিকা মঙ্গলানন্দন (Bhavika Managalanandan) বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে পাক বাহিনী ও তাদের সমর্থিত দুষ্কৃতীরা বহু সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে, যারা নিজেদের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন করছিলেন। তিনি বলেন, “পাকিস্তান অবিলম্বে দমননীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করুক। পাক অধিকৃত অঞ্চলের মানুষ স্পষ্ট বিদ্রোহে নেমেছেন পাকিস্তানের সামরিক শাসন, শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে।”
ভাবিকার কথায়, পাকিস্তান বারবার ভারতের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে জাতিসংঘের আলোচনাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। তবে বারবার অভিযোগ করলে সত্য বদলায় না, খোঁচা তাঁর। পাশাপাশি ভাবিকার এও কটাক্ষ, পাকিস্তানের বক্তব্যের কোনও মূল্য নেই এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে।
কাশ্মীরে নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মানুষের অংশগ্রহণের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, “ভারতীয় গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের আস্থা স্পষ্ট। জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষ নিয়মিত ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন, এবং উন্নয়নের সুফলও পাচ্ছেন।” এই পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তান আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা তৈরি করছে।
জাতিসংঘের ১৯৪৮ সালের প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে ভারত জানায়, প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে পাকিস্তানকে কাশ্মীর থেকে তার সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইসলামাবাদ এখনও বেআইনিভাবে অঞ্চলটি দখল করে রেখেছে। ভারত আবারও একবার স্পষ্ট জানায়, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও অহিংসার মূল্যবোধের কথা তুলে ধরে ভাবিকা বলেন, ভারতের মানবাধিকার কাঠামো মহাত্মা গান্ধীর পথ অনুসরণ করে ক্রমাগত আরও শক্তিশালী হয়েছে। সংবিধান থেকে শুরু করে বিচারব্যবস্থা ও মানবাধিকার কমিশন - সব ক্ষেত্রেই মানবাধিকার রক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।
জাতিসংঘে একাধিক সদস্য দেশের প্রতিনিধি ভারতের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে বলে, শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার সম্মান করা জরুরি।