শুক্রবার দেশের বিদেশ মন্ত্রক পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রতিবাদীদের উপর সেদেশের সেনা-পুলিশের যৌথ নৃশংসতাকে ভীতিজনক বলে আখ্যা দিয়েছে।

বিদেশ মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ চলছে। যা দমন করতে পাক বাহিনী নৃশংস অত্যাচার চালাচ্ছে।
শেষ আপডেট: 3 October 2025 17:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সরকার বিরোধী আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করায় মুখে না বললেও খুশি ভারত। শুক্রবার দেশের বিদেশ মন্ত্রক পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রতিবাদীদের উপর সেদেশের সেনা-পুলিশের যৌথ নৃশংসতাকে ভীতিজনক বলে আখ্যা দিয়েছে। পাকিস্তানের শোষণ-নিপীড়নের শাসনের প্রতিবাদে এটাই স্বাভাবিক পরিণতি বলে মনে করে নয়াদিল্লির সরকার।
এদিন সাপ্তাহিক সাংবাদিক সম্মেলনে বিদেশ মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ চলছে। যা দমন করতে পাক বাহিনী নৃশংস অত্যাচার চালাচ্ছে। এই অঞ্চলকে জোর করে, অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে সরকার। এখানকার প্রাকৃতিক সম্পদকে অন্য দেশের হাতে বেচে দিতে চাইছে। এই দমনপীড়নের প্রতিবাদে স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষ রুখে দাঁড়িয়েছেন।
এখানে যেভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়ে চলেছে, তার জন্য পাকিস্তান সরকার দায়ী। উল্লেখ্য, অধিকৃত কাশ্মীরে প্রতিবাদ দমন করতে পাক বাহিনী ১২ জনকে গুলি করে মেরেছে। জখম হয়েছেন ১৫০ জনেরও বেশি। সব মিলিয়ে ফের গৃহযুদ্ধের মুখে পাকিস্তান। কেবলমাত্র ভারত-বিরোধী চক্রান্ত কষতে ব্যস্ত পাক প্রশাসনের নজরই নেই নিজের দেশের দিকে। একদিকে সুদূর পশ্চিম প্রান্তে বালুচ স্বাধীনতাকামীদের নিরন্তর বিদ্রোহ, অন্যদিকে গত কয়েকদিন ধরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষ প্রতিবাদে সরব হয়েছেন সরকারের বিরুদ্ধে।
এই জাঁতাকলে পড়ে নির্বিচারে ডাইনি হত্যার মতো মানুষ মেরে চলেছে পাক বাহিনী। তবে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়েছে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও। করাচিতে কয়েকশো প্রতিবাদী রাস্তায় নেমেছেন। অন্যদিকে, আন্দোলন দমন করতে পুলিশ ইসলামাবাদের জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢুকে তছনছ চালিয়েছে। সেখানে আইনজীবীরা শান্তিপূর্ণভাবে সাংবাদিক সম্মেলন করছিলেন। অভিযোগ, সাংবাদিকদেরও রেয়াত করা হয়নি। তাঁদেরও ব্যাপক মারধর, লাঠিপেটা করা হয়।
৩৮ বছরের মধ্যে এই প্রথম এত বড় আন্দোলন শুরু হয়েছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে। যে আন্দোলন স্তব্ধ করতে পুলিশ-সেনার গুলিতে এ পর্যন্ত অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারই প্রতিবাদে প্রেস ক্লাবে একটি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেও পুলিশ ঢুকে নির্বিচারে ভাঙচুর ও মারধর চালায়। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির নেতা শওকত নওয়াজ মিরের অভিযোগ, পাক সরকার এবং তার সেনাবাহিনী স্থানীয়দের কণ্ঠরোধ করছে। এই সরকার ডায়ন (ডাইনি)। ডাইনির মতো শিকারে বেরিয়েছে আর নিজেরই দেশের মানুষের রক্ত খাচ্ছে।