ভারতীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকও একই ধরনের বিবৃতি দিয়েছে। তাঁরা জানায়, দুই দেশের মধ্যের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের দীর্ঘস্থায়ী গুরুত্বকে স্বীকার করে নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 16 September 2025 20:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাণিজ্য (Trade) নিয়ে ফের আশার আলো দেখা যাচ্ছে ভারত ও আমেরিকার (India - USA) সম্পর্কে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) ৫০ শতাংশ শুল্ক (50% Tariff) আরোপের পর প্রথম দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। দুই পক্ষই এই আলোচনাকে 'ইতিবাচক' (Positive) বলে বর্ণনা করেছে।
মঙ্গলবার দিল্লিতে মার্কিন সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি (Assistant US Trade Representative) ব্রেন্ডান লিঞ্চ তাঁর ভারতীয় প্রতিপক্ষ বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ আগরওয়ালের সঙ্গে বৈঠক করেন। মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র জানান, দুই দেশের বাণিজ্য সংক্রান্ত পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে এই বৈঠক ছিল খুবই ইতিবাচক।
ভারতীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকও একই ধরনের বিবৃতি দিয়েছে। তাঁরা জানায়, দুই দেশের মধ্যের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের দীর্ঘস্থায়ী গুরুত্বকে স্বীকার করে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশই একটি সমান্তরাল জায়গায় পৌঁছানোর জন্য তাঁদের প্রচেষ্টা বাড়াতে সম্মত হয়েছে।
শুল্ক আরোপের পর সম্পর্ক তলানিতে
গত জুলাই মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন হঠাৎ করে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনছে। এর ফলে দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকেছিল। ট্রাম্প ভারতের অর্থনীতিকে 'মৃত' বলে আখ্যা দেন, এবং তার বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনাকে 'ব্লাড মানি' বলে মন্তব্য করেন। এসব মন্তব্য দুই দেশের মধ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে।
ভারত অবশ্য এই শুল্ককে 'অন্যায্য' বলে আখ্যা দিয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি তেল কেনে চিন এবং ইইউ দেশগুলি, সেখানে ভারতের ওপর কেন শুল্ক চাপানো হল, তা বোধগম্য নয়।
মোদী-ট্রাম্পের বার্তায় সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত
গত সপ্তাহে সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানান যে, ভারত ও আমেরিকার মধ্যের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং তিনি সমস্যা সমাধানের আশা করছেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও নিজের সোশ্যাল পোস্টে একই ধরনের বার্তা দেন। এরপরই দুই দেশের মধ্যে এই বাণিজ্য বৈঠক অন্য মাত্রা এনেছে।
গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছিল। প্রথম পাঁচ দফা আলোচনা শেষ হলেও ২৬-২৯ অগস্টের মধ্যে ষষ্ঠ দফার বৈঠকটি স্থগিত হয়ে গেছিল। তবে এই নতুন বৈঠক দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।