আগামিকাল, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি এই বিষয়ে পরবর্তী দ্বিপাক্ষিক ফোনালাপ হবে বলে জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সের্গিও গোর (Sergio Gor)। সোমবার নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব গ্রহণের দিনই এই সুসংবাদের কথা জানান তিনি।
.jpeg.webp)
বাণিজ্য চুক্তি (trade deal) চূড়ান্ত না হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে ভারত–আমেরিকা সম্পর্কে তিক্ততা তৈরি হয়েছে।
শেষ আপডেট: 12 January 2026 16:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুই দেশের সম্পর্কে টানাপড়েনের আবহে বাণিজ্য (trade) নিয়ে ফের সক্রিয় আলোচনায় বসতে চলেছে ভারত ও আমেরিকা (India–U.S.)। আগামিকাল, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি এই বিষয়ে পরবর্তী দ্বিপাক্ষিক ফোনালাপ হবে বলে জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর (Sergio Gor)। সোমবার নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব গ্রহণের দিনই এই সুসংবাদের কথা জানান তিনি।
বাণিজ্য চুক্তি (trade deal) চূড়ান্ত না হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে ভারত–আমেরিকা সম্পর্কে তিক্ততা তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে ভারতীয় মুদ্রা (Indian Rupee) রেকর্ড পরিমাণ অর্থাৎ সর্বনিম্ন স্তরে নেমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই গোর জানান, আলোচনা প্রক্রিয়া এখনও সক্রিয় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগামী মাসে ভারতকে প্যাক্স সিলিকায় (Pax Silica) যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হবে। এটি আমেরিকার নেতৃত্বে গড়া একটি প্রকল্প। যার লক্ষ্য— দুষ্প্রাপ্য খনিজ (critical minerals) থেকে শুরু করে সেমিকন্ডাক্টর (semiconductors) ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ সিলিকন সরবরাহ শৃঙ্খল (silicon supply chain) গড়ে তোলা।
ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে পড়ার পরই গত অগস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক (tariff) বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করেন, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ হার। এর মধ্যে ছিল ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক। রাশিয়ার কাছ তেল কেনার জন্য ভারতকে ‘শাস্তি’ দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে ওয়াশিংটনের বক্তব্য। তবে ভারত সরকারের দাবি, গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে একাধিকবার দুই দেশ চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল। গত সপ্তাহেও নয়াদিল্লি জানিয়েছে, আলোচনা পুরোপুরি ভেস্তে যায়নি।
সার্জিও গোর বলেন, দুই পক্ষই এখনও সক্রিয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে। আসলে আগামিকালই বাণিজ্য নিয়ে পরবর্তী বৈঠক হচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, বাণিজ্যের পাশাপাশি নিরাপত্তা (security), সন্ত্রাসবাদ দমন (counterterrorism), জ্বালানি (energy), প্রযুক্তি (technology), শিক্ষা (education) ও স্বাস্থ্য (health)— এই সব ক্ষেত্রেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
গোরের মন্তব্যে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে ভারতীয় শেয়ার বাজার। সোমবার দুপুরে বেঞ্চমার্ক সূচক নিফটি ৫০ (Nifty 50) প্রায় ২২০ পয়েন্ট ঘুরে দাঁড়িয়ে ০.১৫ শতাংশ বৃদ্ধিতে লেনদেন করে। নিফটি ছিল প্রায় ২৫,৭৫০-এর কাছাকাছি, আর সেনসেক্স (Sensex) ওঠে প্রায় ২০০ পয়েন্ট। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলও (Piyush Goyal) আলাদা মন্তব্যে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে নয়াদিল্লি। সার্জিও গোর বলেন, আমেরিকা ও ভারত কেবল অভিন্ন স্বার্থে আবদ্ধ নয়, এই সম্পর্ক সর্বোচ্চ স্তরে দৃঢ়ভাবে প্রোথিত।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) জানিয়েছিলেন, ২০২৫ সালের শরৎকাল নাগাদ চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছনোর পরিকল্পনা আছে। বর্তমানে পণ্যে বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ডলার। সেই ফাঁক পূরণে আমেরিকার কাছ থেকে ভারত সর্বোচ্চ ২৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি কিনবে এবং প্রতিরক্ষা আমদানিও বাড়াবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
রয়টার্স (Reuters)-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বছর চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেও যোগাযোগের ঘাটতির কারণে আলোচনা ভেস্তে যায়। এই প্রসঙ্গে গোর বলেন, আসল বন্ধুরা মতভেদে জড়াতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা নিজেদের মতপার্থক্য মিটিয়েই ফেলে। তাঁর এই বক্তব্যই আপাতত ইঙ্গিত দিচ্ছে— বাণিজ্য নিয়ে টানাপড়েন থাকলেও ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক পুরোপুরি ভাঙার পথে নয়, বরং নতুন করে সমাধানের চেষ্টা চলছে।