
রাষ্ট্রসংঘ - ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 18 March 2024 16:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের উপর সংঘঠিত হিংসা এবং ইসলাম-বিদ্বেষের বিরোধিতা করে প্রস্তাব পাশ হল বাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে। এই প্রবণতা বন্ধে রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূত নিয়োগের কথাও বলা হয়েছে প্রস্তাবটিতে।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আনা ওই প্রস্তাবটির অন্যতম সমর্থক ছিল চিন এবং রাশিয়া। বাংলাদেশ-সহ ১১৫টি দেশ ভোটাভুটিতে অংশ নেয়। ভারত-সহ বেশ কিছু দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রুচিরা কাম্বোজ বলেন, একটি ধর্ম নিয়ে প্রস্তাব আসাতেই ভারত ভোটাভুটি এড়িয়ে গিয়েছে। হিন্দু, বৌদ্ধ-সহ আরও অনেক ধর্মের মানুষও আক্রান্ত হচ্ছে। সব ধর্মের উপর হামলা বন্ধের প্রস্তাব এলে ভারত সমর্থন করত। প্রস্তাবটিতে একই যুক্তিতে ভোটাভুটি এড়িয়ে গিয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন-সহ ৪৪টি দেশ।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সিএএ নিয়ে দেশে বিতর্কের মাঝে রাষ্ট্রসংঘে ইসলাম সংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়ে বাড়তি সতর্ক ছিল ভারত। সিএএ-তে প্রতিবেশি বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে ধর্মীয় কারণে নির্যাতনের শিকার হওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন এবং পার্সিদের ভারতে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ওই তিন দেশেই ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম।
প্রসঙ্গত, ইসলাম-বিদ্বেষের বিরোধিতা করে আনা প্রস্তাবটি এর আগে দু’বার সাধারণ পরিষদে পেশ হয়েও পাশ হয়নি। প্রস্তাবের কিছু শব্দ নিয়ে একাধিক দেশ আপত্তি তুলেছিল। যদিও রাষ্ট্রসংঘ প্রস্তাবটি পাশ করাতে খুবই উৎসাহী ছিল।
এমন একটি প্রস্তাব পাশ করানোর তাগিদ অনুভব করা হয় ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডে দুটি মসজিদে হামলার ঘটনার পর। সে বছর ১৫ মার্চ জুম্মার নামাজের সময় অজ্ঞাত পরিচিত বন্দুকধারীদের গুলিতে ৫৪জন মুসলিম নিহত হন। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরস প্রস্তাব পাশের ভাষণে বলেন, বিদ্বেষ এবং একপাক্ষিক ভুল ধারণা থেকে বিশ্বকে মুক্ত করা দরকার। তিনি বিশেষভাবে ইসলামোফোবিয়ার কথা বলতে চেয়েছেন। বিশ্বজুড়েই ইসলামকে ভয়ঙ্কর, বিধ্বংসী শক্তি হিসাবে তুলে ধরে প্রচার চালানো হচ্ছে। এই প্রচারের অবসান চাওয়া হয়েছে প্রস্তাবে।