১৫ সেপ্টেম্বরের শেষ দিনে (Income Tax Return) আয়কর পোর্টালে (Income Tax Portal) ধীরগতি ও গ্লিচে (Technology Glitch) বিপাকে করদাতারা। জরুরি নির্দেশিকা জারি করল আয়কর বিভাগ।

আয়কর রিটার্ন জমার শেষ দিনে পোর্টালে গ্লিচ। ছবি: এআই নির্মিত।
শেষ আপডেট: 15 September 2025 18:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আয়কর রিটার্ন (ITR) দাখিলের শেষ দিনে ভোগান্তি বাড়ল করদাতাদের। অর্থবর্ষ ২০২৪-২৫-এর জন্য ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ নির্ধারিত সময়সীমা ঘনিয়ে আসতেই আয়কর ই-ফাইলিং পোর্টাল মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠছে।
ব্যবহারকারীরা জানান, পোর্টাল অতিরিক্ত ধীরগতিতে চলছে, ফর্ম আপলোডে বারবার ত্রুটি দেখা দিচ্ছে, এমনকি সাবমিশনের সময়ও সিস্টেম বারবার ক্র্যাশ করছে। এতে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বেড়েছে করদাতাদের মধ্যে। বিশেষ করে বেতনভুক কর্মী ও ছোট ব্যবসায়ীরা, যাঁরা সময়সীমার মধ্যে ফাইল করার চেষ্টা করছেন, তাঁরা বেশ চিন্তায়। করদাতাদের অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে আয়কর দফতর করদাতাদের জানিয়েছে, সমস্যায় পড়লে তারা যেন ইমেল (orm@cpc.incometax.gov.in) বা হেল্পলাইন (1800-103-4215)-এর মাধ্যমে যোগাযোগ করেন।
ধ্রুব অ্যাডভাইজর্স এলএলপির পার্টনার দীপেশ ছেদা জানিয়েছেন, একবার সময়সীমা বাড়ানোর পর সরকার স্পষ্ট করেছে যে ১৫ সেপ্টেম্বরই অডিটবিহীন করদাতাদের জন্য চূড়ান্ত সময়সীমা।
তিনি বলেন, “যদি বড় ধরনের সিস্টেম ক্র্যাশ বা মারাত্মক গ্লিচ দেখা দেয়, তখনই হয়তো সরকার শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেবে। অন্যথায় সময়সীমা বাড়ানোর সম্ভাবনা নেই।”
তিনি আরও জানান, সময়সীমা বাড়ানো হলে সরকারের পক্ষে ট্যাক্স আদায় বিলম্বিত হবে, রিফান্ডে দেরি হবে এবং নির্ধারিত সময়ের গুরুত্বও কমে যাবে। ফলে সাধারণ করদাতাদের এখনই রিটার্ন ফাইল করতে হবে।
SEBI RIA ও সহজ মানির প্রতিষ্ঠাতা অভিষেক কুমার বলেন, “শেষ দিনে অতিরিক্ত চাপের কারণেই এই গ্লিচ হচ্ছে। করদাতারা যেন অবিলম্বে সমস্যার বিষয়টি IT বিভাগের কাছে তুলে ধরেন।”
ছেদা আরও বলেন, "দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব ITR ফাইল করুন। ফর্ম ১৬, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বিনিয়োগের প্রমাণপত্র, ক্যাপিটাল গেইনস রেকর্ড আগে থেকে প্রস্তুত রাখুন। Form 26AS ও AIS-এর সঙ্গে ক্রসচেক করুন। নির্ভরযোগ্য সফটওয়্যার বা অ্যাপ ব্যবহার করুন যাতে ভুল কম হয়। পিক আওয়ার এড়িয়ে ফাইল করার চেষ্টা করুন। আপলোডের পর অবিলম্বে ই-ভেরিফাই না করতে পারলেও সমস্যা নেই—৩০ দিনের মধ্যে করা যাবে।"
এদিকে আয়কর আইনের ২৩৪এফ ধারায় দেরিতে রিটার্ন জমা দিলে জরিমানা দিতে হবে। ৫ লক্ষ টাকার বেশি আয়ের করদাতাদের ক্ষেত্রে জরিমানা ₹৫,০০০। ৫ লক্ষ টাকার নীচে আয়ের করদাতাদের জরিমানা ₹১,০০০। এছাড়া আরও শাস্তি থাকছে। যেমন ২৩৪এ ধারায় বাকি ট্যাক্সের ওপর মাসে ১% হারে সুদ ধার্য হবে।
শুধু তাই নয়, ক্যাপিটাল বা ব্যবসায়িক ক্ষতি ভবিষ্যতে বহন করার সুবিধা হারাবেন করদাতারা। কিছু ছাড় বা ছাড়পত্রের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। পুরনো ও নতুন কর ব্যবস্থা বদল করার সুবিধাও হাতছাড়া হবে।
আয়কর দফতর জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং করদাতাদের সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়সীমা আর বাড়ার সম্ভাবনা খুব কম। তাই করদাতাদের অবিলম্বে রিটার্ন ফাইল করাই বুদ্ধিমানের কাজ।