
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 29 March 2025 11:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাইবার প্রতারণা (Cyber Fraud)। এক পলকে ৫০ লক্ষ টাকা খুইয়েছিলেন বৃদ্ধ দম্পতি (Elderly Couple)। সেই ধাক্কা সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতী হলেন তাঁরা। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে কর্নাটকে (Karnataka)। আত্মহত্যার আগে চিঠি লিখে গেছিলেন ওই দম্পতি। তা উদ্ধার করেই সাইবার প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরেছে পুলিশ।
কর্নাটকের বেলাগাভি জেলার খানাপুর তালুকের বাসিন্দা ছিলেন ডিওডেরন সান্তান নাজারেথ (৮২) এবং তাঁর স্ত্রী ফ্লাভাইনা (৭৯)। তাঁদের কোনও সন্তান ছিল না। বৃহস্পতিবার তাঁদের বাড়ি থেকে দুজনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, শেষ কয়েকদিন ধরে তাঁদের কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করা হয়। তখনও কেউ সাড়া না দেওয়ায় তাঁরা পুলিশ ডাকেন।
মহারাষ্ট্রে সরকারি কর্মচারী ছিলেন সান্তান। তাঁর ঘাড়ে ছুরির আঘাত মিলেছে, হাতেও চোট রয়েছে। অনুমান, প্রথমে হাত কাটার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তারপর ঘাড়ে ছুরির কোপ মেরে আত্মহত্যা করেন। আর তাঁর স্ত্রী বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এখন পুলিশ অপেক্ষা করছে ময়নাতদন্ত রিপোর্টের জন্য। তা এলেই দুজনের মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে।
এদিকে যে সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে তাতে দম্পতি লিখে গেছেন, সুমিত বির্রা এবং অনিল যাদব নামে দুজন তাঁদের টেলিকম বিভাগের কর্মী পরিচয় দিয়ে ফোন করেছিলেন কয়েক দিন আগে। প্রথমে সুমিত বলেছিলেন, তাঁদের সিম কার্ড নাকি একাধিক অবৈধ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। তা দিয়ে বেআইনি লেনদেনও হয়েছে। পরে ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসার বলে অনিলকে দিয়েও ফোন করানো হয়। তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থ তাঁদের জমি-বাড়ির তথ্য দিতে হবে এবং ৫০ লক্ষ টাকাও লাগবে। নাহলে তাঁরা ফেঁসে যেতে পারেন!
সান্তান চিঠিতে বলে গেছেন, ভয় পেয়ে ৫০ লক্ষ টাকা তিনি দিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও টাকা চেয়ে যাচ্ছিলেন সুমিত এবং অনিল। চাপে পড়ে প্রায় ৭ লক্ষ টাকার গোল্ড লোনও নিয়েছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, একাধিক বন্ধুদের থেকেও নাকি টাকা ধার করেছিলেন তিনি। তবে শেষমেশ বুঝতে পারেন, পুরোটাই জালিয়াতি। তাই আত্মহত্যা করা ছাড়া আর উপায় পাননি তাঁরা।
দম্পতি চাইতেন না কারও দয়ায় বাঁচতে। কেউ তাঁদের টাকা নিয়ে খারাপ কথা শোনাক, সেটাও নামঞ্জুর ছিল তাঁদের। সেই কারণেই আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা, সুইসাইড নোটে এমনটাই উল্লেখ করে গেছেন তাঁরা। পাশাপাশি এও আর্জি করে গেছেন, তাঁদের দেহ যেন পোড়ানো না হয়, কোনও হাসপাতালে দান করা হয় মেডিক্যালের পড়াশোনার জন্য।