
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 20 December 2024 11:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুরুগ্রামের এক ইউজার এক্সপেরিয়েন্স (UX) ডিজাইনার এবার স্ত্রীর অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন। বেঙ্গালুরুর তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী অতুল সুভাষের আত্মহত্যার পর ২৪ পাতার সুইসাইড নোটে মর্মান্তিক মানসিক যন্ত্রণার কথা টের পেয়েছে দেশের মানুষ। তারপর আর এক যুবক স্ত্রীর বিরুদ্ধে অনবরত মানসিক কষ্ট দেওয়ার বিষয়ে মুখ খুললেন। ইতিমধ্যেই তাঁর বিরাট বৃত্তান্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।
লিঙ্কডইনে (LinkedIn) অলোক মিত্তল নামে এই যুবক তাঁর স্ত্রী মানসীর বিরুদ্ধে পণ এবং গার্হস্থ্য হিংসার মিথ্যা মামলা আনার অভিযোগ জানিয়েছেন। যা নিয়ে তাঁর স্ত্রী ক্রমাগত তাঁকে হেনস্তা করে চলেছেন বলে অভিযোগ মিত্তলের। তাঁর আরও অভিযোগ, স্ত্রী বিয়ের ৬ মাস পর থেকেই আলাদা থাকছেন। এছাড়াও, মানসী নামে ওই স্ত্রী তাঁর কাছে মাসে দেড় লক্ষ টাকা খোরপোষ বাবদ এবং এককালীন ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন বলে দাবি অলোক মিত্তলের।
উল্লেখ্য, অলোক মিত্তলের সঙ্গে মানসীর বিয়ে হয়েছিল ২০২৩ সালের মে মাসে। দিল্লিতে ওই বিয়ের পরপরই অলোক চাকরি হারান। ইতিমধ্যেই বুঝতে পারেন যে তাঁরা বাবা-মা হতে চলেছেন। লিঙ্কডইন পোস্টে মিত্তল দাবি করেছেন, তখন থেকেই তাঁর স্ত্রী নতুন চাকরি খোঁজার জন্য তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। কিছুদিনের মধ্যেই আমি জানতে পারি যে, আমি বাবা হতে চলেছি। এদিকে, মানসী আমাকে বলতে থাকে পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তে একটা চাকরি খুঁজে বের করতে, লিখেছেন মিত্তল।
পাঁচ মাস ধরে লাগাতার চাকরি খোঁজার পর আমি অবশেষে বেঙ্গালুরুতে একটি কাজ পাই। সেটা ছিল ২০২৩ সালে নভেম্বর মাস। কিন্তু, মানসী আমার সঙ্গে বেঙ্গালুরু যেতে অস্বীকার করে। মিত্তল আরও লিখেছেন, সে বলে গর্ভধারণের জন্য সে হঠাৎ করে চলে যেতে পারবে না। ও তখন বাপের বাড়ি চলে যায়। মিত্তলের কথায়, ও কথা দিয়েছিল আমি সেটল হওয়ার পরেই চলে আসবে। কিন্তু, ডিসেম্বরে আমি যখন ওকে নিয়ে যেতে দিল্লি আসি, তখন ও যেতে অস্বীকার করে।
এর মধ্যে মিত্তলের স্ত্রী ও তাঁর বাবা-মা তাঁর উপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেন। মানসী তাঁকে বলতে থাকে বেঙ্গালুরুর চাকরি ছেড়ে দিতে। মিত্তল লিখেছেন, আমার ৭৩ বছর বয়সি মা সহ আমাকে ক্রমাগত হুমকি ও হেনস্তা করা চলতে থাকে। এমনকী চাপ বাড়াতে তাঁর স্ত্রী দিল্লি ও বেঙ্গালুরুতে দুটি থানায় অভিযোগও দায়ের করেন। যাতে তাঁর দাবি, স্ত্রী মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে।
মিত্তলের অভিযোগ, তাঁর স্ত্রী মানসী আগরওয়াল কলেজদুনিয়ায় অ্যানালিস্টের চাকরি করেন। এবং মাসে ৮০,০০০ টাকা বেতন পান। ভালো রোজগার সত্ত্বেও মানসী তাঁর কাছে দেড় লাখ টাকা মাসে খোরপোষ এবং এককালীন এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। ইতিমধ্যে তাঁদের সন্তানের বয়স ১০ মাস হয়ে গিয়েছে। যুবকের অভিযোগ, স্ত্রী ও তাঁর বাবা-মা ছেলের সঙ্গে দেখা করতেও দিচ্ছেন না।
মিত্তল লিখেছেন, ছেলের প্রতি আমার দুর্বলতা বুঝে স্ত্রী ওকে আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। যখনই আমি ছেলেকে দেখার জন্য ভিডিও কল করি, তখনই ও বলে ছেলে এখন ঘুমোচ্ছে। আমি দিল্লি না গেলে ওরা বলে আমি স্ত্রী-সন্তানকে ফেলে দিতে চাইছি। আবার ও বেঙ্গালুরুতেও আসছে না। ও সে কারণে আমার বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার মামলাও করেছে। কিন্তু, এত কিছু সত্ত্বেও স্ত্রী আমার বিরুদ্ধে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করেনি, লিখেছেন মিত্তল। কারণ হিসেবে তিনি লিখেছেন, বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেলে আমি স্বাধীন জীবনযাপন করতে পারব। ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারব। ও এত টাকা পাবে না। হিন্দিতে লিখেছেন, লস হো জায়গা ফির তো!