জেল আধিকারিকদের সন্দেহ, এটি একটি সংগঠিত পাচার চক্রের অংশ, যেখানে জেলের ভেতর ও বাইরে থেকে মিলেমিশে মাদক ঢোকানোর চেষ্টা হচ্ছিল (Karnataka narcotics seizure)।

উদ্ধার হওয়া মাদক
শেষ আপডেট: 22 November 2025 13:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবারও কর্নাটক (Karnataka)! পারাপ্পানা অগ্রহারার (Bengaluru prison controversy) পর আরও এক সেন্ট্রাল জেল উঠে এল বিতর্কের শিরোনামে। শিবমোগ্গা কেন্দ্রীয় জেলে (Shivamogga jail) ধরা পড়ল বড়সড় মাদক চক্র। শুক্রবার এক মাদকবিরোধী অভিযানে ধরা পড়ে ১২৩ গ্রাম গাঁজা এবং বেশ কিছু সিগারেট (drugs cigarette smuggled into Karnataka prison)।
জেল আধিকারিকদের সন্দেহ, এটি একটি সংগঠিত পাচার চক্রের অংশ, যেখানে জেলের ভেতর ও বাইরে থেকে মিলেমিশে মাদক ঢোকানোর চেষ্টা হচ্ছিল (narcotics seizure)।
কলার কাঁদির ভিতর কীভাবে ঢুকল গাঁজা–সিগারেট?
ঘটনার সূত্রপাত, এক অটোরিকশা চালক জেলে মেইন গেটে এসে জানান, জেল ক্যান্টিনের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি পাঁচ বস্তা কলা পৌঁছে দিতে এসেছেন। সন্দেহের কোনও অবকাশ ছাড়াই তিনি বস্তাগুলি গেটের বাইরে রেখে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।
রুটিন চেকিংয়ের সময় নিরাপত্তারক্ষীরা দেখেন, কলার বস্তাগুলি আগে থেকেই সূক্ষ্মভাবে কাটা। ভিতরে গাম টেপ দিয়ে মোড়া গাঁজা ও সিগারেটের প্যাকেট, কেউ যাতে বুঝতে না পারে সেভাবে লুকোনো। বস্তার ফাঁকেই সেগুলি এমনভাবে গুঁজে রাখা হয়েছিল যে বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই।
দ্বিতীয় পাচারের চেষ্টা - জেলকর্মীই ধরা পড়লেন
এইসমস্ত জিনিস উদ্ধার হওয়ার পরও ঘটনার আরও বড় এক অংশ বাকি ছিল। কিছু সময় পর ডিউটিতে রিপোর্ট করতে আসা এক SDA স্টাফ–এর কাছে পাওয়া যায় আরও ১৭০ গ্রাম গাঁজা, একইভাবে গাম টেপে মোড়া অবস্থায়।
অভিযুক্ত সেই ব্যক্তির নাম সাত্বিক। তিনি মাদকটি নিজের অন্তর্বাসের নিচে লুকিয়ে সাবধানে লুকিয়ে রেখেছিলেন। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে আটক করা হয় এবং পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
প্রশ্ন উঠছে, একই চক্রের অংশ কি দুই ঘটনাই?
একই ধরনের প্যাকিং, একই সময়ের মধ্যে উদ্ধার এবং একই জেল সংলগ্ন এলাকা - এই তিন মিল দেখে জেল প্রশাসনের সন্দেহ আরও বেড়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, কলার বস্তাগুলো সম্ভবত জেলের বাইরে থেকে পাঠানো ‘ড্রপ’। আর জেলকর্মী সাত্বিকের ভূমিকা হয়তো ছিল জেলের ভেতরে এই মাদক পৌঁছে দেওয়ার ‘ইনসাইড লিঙ্ক’। অর্থাৎ পাচারের পরিকল্পনা ছিল দুই দিক থেকে সংযুক্ত।
দুই ক্ষেত্রেই তুঙ্গনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কর্নাটক প্রিজন অ্যাক্ট এবং NDPS অ্যাক্টের একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
পুলিশ তদন্ত করছে, আরও কেউ যুক্ত আছে কিনা, এবং কতদিন ধরে এমন নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল।
বেঙ্গালুরু কেন্দ্রীয় জেলের সাম্প্রতিক বিতর্ক
এই ঘটনা সামনে এসেছে এমন সময়, যখন কয়েক সপ্তাহ আগেই বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল জেল নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, বন্দিরা জেলের ভিতরেই মদের আসর বসিয়ে পার্টি করছে। কেউ নাচছে, কেউ টিভি দেখছে, কেউ মোবাইল ব্যবহার করছে।
কর্নাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি. পরমেশ্বর জানিয়েছিলেন, ভাইরাল হওয়া পাঁচটি ভিডিওর মধ্যে তিনটি ২০২৩ সালের এবং দু’টি এই বছরের। ভিডিওগুলি প্রকাশ্যে আসতেই তিনি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও ব্যাপক সংস্কারের ঘোষণা করেন।