জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আগামী দু সপ্তাহের মধ্যে নিহত সাংবাদিকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের অর্থ পৌঁছে দিতে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের মুখ্য সচিব এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের সচিবকে নির্দেশ দিয়েছে।

শেষ আপডেট: 12 September 2025 19:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আন্দামানের নিহত সাংবাদিক শাহদেব দে-র পরিবারকে ১০ লাখ টাকা এককালীন ক্ষতিপূরণ বাবদ দেওয়ার সুপারিশ করল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (National Human Rights Commission)। 'রিপাবলিক আন্দামান' নামের সংবাদমাধ্যমটির মালিক, সম্পাদক শাহদেব দে কাঠ পাচারকারী ও জুয়ার কারবারীদের হাতে খুন হন বলে তদন্তে জানা যায়। মাফিয়া কারবারের বিরুদ্ধে লাগাতার প্রচার করায় তাঁকে নিশানা করা হয়েছিল বলে ধৃতরা স্বীকার করে। ইন্ডিয়া ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন ইনিশিয়েটিভসের (India Freedom of Expression Initiatives-- আইএফএআই) আহ্বায়ক সুহাস চাকমা আন্দামানে সাংবাদিক হত্যার বিষয়টি নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে দরবার করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, এইভাবে সাংবাদিকদের জনসাধারণের সমস্যা তুলে ধরতে গিয়ে খুন হতে হলে দেশ বিপন্ন হবে। রাষ্ট্রের উচিত নিহত সাংবাদিকের হত্যাকারীদের সাজা প্রদান ও পরিবারের ক্ষতিপূরণ করা।
শুক্রবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC) এই বিষয়ে নির্দেশনা জারি করেছে। তাতে আন্দামানের সাংবাদিক শাহদেব দে-র নিকট আত্মীয়কে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তিনি এ বছর ২৯ মার্চ নিখোঁজ হন। ২ এপ্রিল তাঁর পুড়ে যাওয়া মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আগামী দু সপ্তাহের মধ্যে নিহত সাংবাদিকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের অর্থ পৌঁছে দিতে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের মুখ্য সচিব এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের সচিবকে নির্দেশ দিয়েছে্।
গত ৩ এপ্রিল আইএফইআইয়ের আহ্বায়ক সুহাস চাকমা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেন যে সাংবাদিক শাহদেব দে অবৈধ কাঠ পাচার ও জুয়ার মতো বেআইনি কর্মকাণ্ড ফাঁস করার জন্য পরিচিত ছিলেন এবং সেই কারণেই তাঁকে নিশানা করে হত্যা করা হয়েছে, যাতে তাঁর সাহসী সাংবাদিকতাকে স্তব্ধ করা যায়।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে জমা করা রিপোর্টে আন্দামান পুলিশ জানায় যে, ওই সাংবাদিকের হত্যার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। এ মামলায় ৪ জন অভিযুক্ত—এস গঙ্গাইয়া (৪৮), রামসুব্রহ্মণিয়ম (৪৭), বিতিখা মালিক (৩৫) এবং এম. রমেশ (৪৪)—কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্তরা অপরাধের কথা স্বীকার করে। তদন্ত এখন প্রায় শেষের পথে এবং শুধুমাত্র সেন্ট্রাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি, হায়দরাবাদ থেকে বিশেষজ্ঞরা মতামতের অপেক্ষায় চার্জশিট জমা দেওয়া বাকি আছে। অভিযুক্তরা বর্তমানে মায়াবন্দর জেলা কারাগারে বিচারাধীন হেফাজতে রয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আদেশে বলেছে, “যেহেতু সাংবাদিকের হত্যাকাণ্ডটি ওই অঞ্চলের অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ে সাহসী প্রতিবেদন প্রকাশের ফলস্বরূপ ঘটেছে, কমিশন মনে করে এটি একটি উপযুক্ত মামলা, যেখানে ভুক্তভোগীর পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করা উচিত।আইএফইআইয়ের আহ্বায়ক সুহাস চাকমা বলেছেন,দেশজুড়ে সাংবাদিকরা ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে রয়েছেন শুধুমাত্র তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এই আদেশ এবং অভিযুক্তদের বিচার অবশ্যই সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।