সম্প্রতি হিমাচল সরকার কিছু এলাকাকে 'সবুজ এলাকা' বলে ঘোষণা করে এবং সেখানে নির্মাণ নিষিদ্ধ করে দেয়। সেই বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় হাইকোর্ট হস্তক্ষেপ না করায় সুপ্রিম কোর্ট এই পর্যবেক্ষণ দেয়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 2 August 2025 11:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের মানচিত্র থেকেই মুছে যেতে পারে হিমাচল প্রদেশ। শুক্রবার সতর্ক করল শীর্ষ আদালত। হিমাচলের ক্রমাবর্ধমান পরিবেশ পরিস্থিতি, অপ্রতিরোধ্য নির্মাণকাজ এবং প্রশাসনিক উদাসীনতার তীব্র সমালোচনা করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, অতি মুনাফার লোভে পরিবেশের উপর চাপ তৈরি করলে তার মূল্য দিতে হবে।
শুক্রবার বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা ও বিচারপতি আর মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চ একটি মামলার পর্যবেক্ষণে জানায়, বর্তমানে হিমাচল প্রদেশের পরিস্থিতি খারাপ থেকে আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। পরিবেশগত ভারসাম্য সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে, প্রকৃতি স্পষ্টতই রুষ্ট। আদালত জানায়, পরিবেশ রক্ষা না হলে একদিন হিমাচল 'হাওয়ায় মিশে যাবে।'
ডিভিশন বেঞ্চ শুক্রবার জানায়, 'রাজস্ব আদায়ই সব কিছু নয়। যে গতিতে উন্নয়ন চলছে, তা যদি আগামিদিনেও চলতে থাকে, তাহলে হিমাচলকে মানচিত্রে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। এই আশঙ্কা এখন খুবই বাস্তব। ঈশ্বর করুন, এমনটা যেন না ঘটে।'
সম্প্রতি হিমাচল সরকার কিছু এলাকাকে 'সবুজ এলাকা' বলে ঘোষণা করে এবং সেখানে নির্মাণ নিষিদ্ধ করে দেয়। সেই বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় হাইকোর্ট হস্তক্ষেপ না করায় সুপ্রিম কোর্ট এই পর্যবেক্ষণ দেয়।
বেঞ্চ জানায়, 'এটা শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, মানুষের তৈরি দুর্যোগ। লাগাতার ভূমিধস, রাস্তা ভেঙে পড়া, বাড়ি ধ্বংস, এসবের মূল কারণ অপরিকল্পিত উন্নয়ন। হাইড্রো পাওয়ার প্রজেক্ট, চার লেন হাইওয়ে, বৃক্ষচ্ছেদন, মাল্টি-স্টোরে নির্মাণের চাপে পাহাড়ি ভূভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।'
আদালত স্পষ্ট করে জানায়, উন্নয়ন প্রকল্প চালু করার আগে ভূবিজ্ঞানী, পরিবেশবিদ এবং স্থানীয় মানুষদের মতামত নেওয়া জরুরি। বেঞ্চ মন্তব্য করে, 'হিমাচলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটনের নামে লাগাতার নির্মাণ চলছে। বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে। ফলত প্রকৃতির ভারসাম্য বিপন্ন হচ্ছে। শুধু হিমাচল নয়, গোটা হিমালয় অঞ্চলেই উন্নয়নের আগে ভাবতে হবে পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে। পরিকাঠামো উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি হলেও তা পরিবেশ সুরক্ষার খরচে হতে পারে না।'
শেষে শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, 'পর্যটনের চাপ, দাবানল, অনুপ্রবেশ, অতিচারণ, কৃষি ও নগরায়ণের প্রসার হিমাচলের পরিবেশকে শেষ করে দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারেরও উচিত পরিস্থিতি বোঝা এবং পরিবেশ রক্ষায় উপযুক্ত পদক্ষেপ করা।'
বিষয়টি জনস্বার্থ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করতে এবং আগামী ২৫ অগস্ট ফের শুনানির দিন ধার্য করার নির্দেশ দেয় আদালত। রাজ্য সরকারকে জানানো হয়েছে, তারা কী পদক্ষেপ করছে বা ভবিষ্যতে কী করবে, তা লিখিতভাবে আদালতে জানাতে হবে।