
নিতিন গডকড়ি
শেষ আপডেট: 12 December 2024 16:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'আমি যখন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে যাই, সেখানে যখন পথ দুর্ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়, আমি আমার মুখ লুকানোর চেষ্টা করি'। বৃহস্পতিবার লোকসভায় দেশের পথ দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান সামনে এনে কথাগুলো বলছিলেন কেন্দ্রের সড়ক পরিবহন ও হাইওয়ে মন্ত্রী নিতিন গডকরি। বলছিলেন, তিনি যখন প্রথম দ্বায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তখন তাঁর মূল লক্ষ্যই ছিল পথ দুর্ঘটনার সংখ্যা অন্তত ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা।
এদিন পথ দুর্ঘটনা নিয়ে আলোচনার সময় গডকড়ি আরও বলেন, 'দুর্ঘটনার সংখ্যা কমানোর কথা ভুলে যান, এটা যে বেড়ে গিয়েছে তা স্বীকার করতে আমার কোনও দ্বিধা নেই। আমি যখন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে যাই পথ দুর্ঘটনা নিয়ে আলোচনা হলে আলোচনা হয় তখন লজ্জায় মুখ দেখাতে পারি না।'
গডকড়ি বলছিলেন, 'দুর্ঘটনা কমাতে, সচেতন হতে ভারতীয়দের আচরণের কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন। পাশাপাশি সমাজকে পরিবর্তন করতে হবে এবং আইনের শাসনকে সম্মান করতে হবে।'
মন্ত্রী ও তাঁর পরিবার কয়েক বছর আগে একটি বড় দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলেন। দীর্ঘ সময়ের জন্য হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। এই প্রসঙ্গ টেনে নিতিন বলেন, 'ঈশ্বরের কৃপায়, আমি এবং আমার পরিবার রক্ষা পেয়েছি। তাই দুর্ঘটনায় আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আছে।' তিনি মনে করেন, পথ দুর্ঘটনার অন্যতম একটা কারণ হল রাস্তার মধ্যে ট্রাক পার্কিং করে রাখা। বলেন, 'এমনও দেখেছি যে অনেক ট্রাক, লরি তো রাস্তার শৃঙ্খলাও মানে না।'
ভারতে বাসের কাঠামো তৈরিতে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বলেন, 'বাসের জানালার কাছে একটি হাতুড়ি রাখতে হবে যাতে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সহজেই সেটা দিয়ে জানলা ভেঙে ফেলা যায়'।
পথ দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান সামনে এনে তিনি বলেন, দেশে বছরে ১.৭৮ লক্ষ প্রাণ যায় পথ দুর্ঘটনায়, যার মধ্যে ৬০ শতাংশেরই বয়স ১৮ থেকে ৩৪-এর মধ্যে।
উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের মধ্যে শীর্ষে। দিল্লি শহরের তালিকায় একেবারে ওপরে। উত্তরপ্রদেশে ২৩,০০০ জনেরও বেশি মানুষ (পথ দুর্ঘটনার কারণে মোট মৃত্যুর ১৩.৭ শতাংশ) মারা গেছেন, তারপরেই রয়েছে তামিলনাড়ু, যেখানে ১৮,০০০ (১০.৬ শতাংশ) জনের মৃত্যু হয়েছে।
মহারাষ্ট্রে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫,০০০ (মোট মৃত্যুর ৯ শতাংশ), তারপরে মধ্যপ্রদেশ। যেখানে ১৩,০০০ (৮ শতাংশ) জনের মৃত্যু হয়েছে।