
শেষ আপডেট: 2 February 2024 21:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউডের সেই ছবি ‘ডারার’ এর কথা মনে আছে?
স্ত্রী জুহি চাওলাকে সন্দেহের বশে সারাদিন বাড়িতেই আটকে রাখতেন স্বামী আরবাজ খান। কারও সঙ্গে দেখা করার অনুমতি ছিল না। স্ত্রী কোনও পুরুষের মুখ দেখে ফেললেই চলত অকথ্য নির্যাতন। তবে এটা সিনেমার গল্প। বাস্তবেই এমন ঘটনা ঘটেছে কর্নাটকের মাইসোরে। প্রায় এক যুগ মানে ১২ বছর ধরে বৌকে ঘরবন্দি করে রেখেছিলেন স্বামী। সন্তানদের সঙ্গে দেখা করার সময়ও সীমিত ছিল। একমাত্র স্বামী বাড়ি ফিরলেই ঘরের তালা খোলা হত।
স্বামীর হাত থেকে মুক্তি পেয়ে স্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা। মহিলার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাঁকে নানাভাবে অত্যাচার করতেন। ১২ বছর ধরে তাঁকে একই ঘরে আটকে রেখে দিয়েছিলেন। এমনকী বাড়ির শৌচালয়ও ব্যবহার করতে পারতেন না তিনি। যে ঘরে বন্দি করে রাখা হত তাঁকে, সেই ঘরেই একটি ছোট্ট বাক্সে শৌচকর্ম করতেন। রীতিমতো বিভীষিকাময় জীবন কাটিয়েছেন। এমনকী নিজের সন্তানদের কাছেও যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হত না তাঁকে।
নির্যাতিতার কথায়, “১২ বছর আমাদের বিয়ে হয়েছে। তখন থেকেই আমার স্বামী আমায় ঘরে বন্দি করে রাখত। অত্যাচার করত। বাপের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি ছিল না। প্রতিবেশীরাও কখনও কিছু বলত না। আমার সন্তানরা স্কুলে যেত। কিন্তু ফেরার পর বাড়ির বাইরে এসে দাঁড়িয়ে থাকতে হত। আমার স্বামী কাজ থেকে ফিরলে তবে ঘরের তালা খুলে বাচ্চাদের আমার কাছে আসতে দিত। আমি জানলা দিয়ে ওদের খাবার দিতাম।”
নির্যাতিতা মহিলার নাম সুমা। বয়স প্রায় ৩০ বছরের কাছাকাছি। অভিযুক্ত স্বামী সুনালয় একজন দিনমজুর। সুমা জানিয়েছেন, তিনি তাঁর স্বামীর তৃতীয় পক্ষের স্ত্রী। আগের দুই স্ত্রী হয়রানির শিকার হয়ে সম্পর্ক ত্যাগ করে চলে গিয়েছিলেন। এরপর সুমাকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পরেই স্ত্রীর চরিত্র নিয়ে সন্দেহ করতে থাকেন স্বামী। অহেতুক সন্দেহের বশে সবসময়েই স্ত্রীকে ঘরে তালাবন্ধ করে রাখতেন তিনি। শারীরিক নির্যাতনও চলত তাঁর উপরে।
এই ঘটনার খবর জানতে পেরেছিলেন একজন মানবাধিকার কর্মী তথা আইনজীবী। এরপর তিনি স্থানীয় থানা থেকে পুলিশ ডেকে এনে মহিলাকে উদ্ধার করেছিলেন। বিস্তারিত জানার পর, সুমা ও তাঁর সন্তানদের বাপের বাড়ি পাঠানো হয়েছে। এখন সেখানেই তাঁরা আছেন। তবে স্বামীর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ দায়ের করতে চাননি স্ত্রী। পুলিশ জানিয়েছে, ওই মহিলা ও তাঁর স্বামী দু’জনেরই কাউন্সেলিং চলছে।