মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) স্পষ্ট নির্দেশ দিলেন— এই হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক অপরাধীকে খুঁজে বের করতে হবে।

অমিত শাহ
শেষ আপডেট: 11 November 2025 17:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লালকেল্লার গাড়ি বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে (Delhi Blast) নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) স্পষ্ট নির্দেশ দিলেন— এই হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক অপরাধীকে খুঁজে বের করতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে খবর, বিস্ফোরণ ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে দ্বিতীয় বৈঠক করেন অমিত শাহ। বৈঠকের পর এক্স-এ তিনি লেখেন, “দিল্লির গাড়ি বিস্ফোরণ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করেছি। নির্দেশ দিয়েছি, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে খুঁজে বের করা হোক। দোষীরা কেউই ছাড় পাবে না। এজেন্সিগুলি কঠোরতম পদক্ষেপ নেবে।”
সোমবার সন্ধ্যায় লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের এক নম্বর গেটের কাছে একটি হুন্ডাই i20 গাড়িতে বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় ১৩ জনের। বহু মানুষ আহত হন। ঠিক কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তভার ইতিমধ্যেই জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-র হাতে গিয়েছে।
এই ঘটনার সূত্র ধরে কাশ্মীরে নড়েচড়ে বসেছে নিরাপত্তা বাহিনীও। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ একাধিক জায়গায় রাতভর তল্লাশি চালিয়ে ছ’জনকে আটক করেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পুলওয়ামার বাসিন্দা এক চিকিৎসক, ডা: উমর উন নবি-র তিন আত্মীয়ও।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উমর উন নবি-ই সেই i20 গাড়ির মালিক, যেটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। তিনি ফারিদাবাদে ধৃত এক জঙ্গি মডিউলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সেই মডিউল থেকেই উদ্ধার হয়েছিল প্রায় ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক। তদন্তকারীদের দাবি, উমর উন নবি এখনও নিখোঁজ, এবং তিনি এই বিস্ফোরণ-কাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র।
তদন্তকারীদের মতে, লালকেল্লার মতো ঐতিহাসিক স্থানের কাছে এই বিস্ফোরণ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গোটা ঘটনার পিছনে বৃহত্তর জঙ্গি চক্রান্ত রয়েছে বলেই আশঙ্কা।
দিল্লির বিস্ফোরণের দিনই ফরিদাবাদের একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ, প্রায় ২,৯০০ কেজি আইইডি তৈরির রাসায়নিক পদার্থ। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থার যৌথ অভিযানে ধরা পড়ে জইশ-ই-মহম্মদ ও আনসার গজওয়াত-উল-হিন্দ যুক্ত মডিউলের এক চিকিৎসক, মুজাম্মিল শাকিল। সূত্রের দাবি, তার গ্রেফতারের খবর পাওয়ার পরই আতঙ্কে উমর এই হামলার পরিকল্পনা কার্যকর করেন।
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত হয়েছিল ‘অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ফুয়েল অয়েল’ বা ‘এএনএফও’— যা সাধারণত শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু সন্ত্রাসবাদীরা এটি ব্যবহার করে থাকে শক্তিশালী বিস্ফোরক হিসেবেও।