বাগু খান ওরফে সমন্দর চাচা (Samandar Chacha) ১৯৯৫ সাল থেকে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে (POK) ঘাঁটি গেড়েছিল। শুরুতে হিজবুল কমান্ডার (Hizbul commander) হলেও সময়ের সঙ্গে সব জঙ্গি সংগঠনেরই আশ্রয়দাতা হয়ে ওঠে সে।

বাগু খান
শেষ আপডেট: 30 August 2025 14:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুরেজ সীমান্তে গুলি বিনিময়ে খতম কুখ্যাত জঙ্গি (Terrorist)। নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে খতম (killed in J&K encounter) হওয়া ওই জঙ্গির নাম বাগু খান (Bagu Khan)। জঙ্গি মহলে তাঁর আরেক নাম ছিল ‘হিউম্যান জিপিএস’ (Human GPS)। কারণ, গুরেজের দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডের প্রত্যন্ত পথঘাট ছিল তাঁর নখদর্পণে (Human GPS' Bagu Khan, behind over 100 infiltration bids)। গত তিন দশক ধরে সীমান্তে অনুপ্রবেশের (Infiltration) ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অন্যতম ভরসার জায়গা। শনিবার ভোরে সংঘর্ষে মৃত্যু হল তাঁর (Bagu Khan Killed)। সঙ্গে খতম হয়েছে আরও এক জঙ্গি।
বাগু খান ওরফে সমন্দর চাচা (Samandar Chacha) ১৯৯৫ সাল থেকে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে (POK) ঘাঁটি গেড়েছিল। শুরুতে হিজবুল কমান্ডার (Hizbul commander) হলেও সময়ের সঙ্গে সব জঙ্গি সংগঠনেরই আশ্রয়দাতা হয়ে ওঠে সে। গুরেজ সেক্টর ও লাগোয়া এলাকার অনুপ্রবেশের জন্য পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর থেকে আসা জঙ্গিদের পাহাড়ি রাস্তায় পথ দেখিয়ে আনাই ছিল তাঁর মূল দায়িত্ব। সেনা সূত্রের দাবি, শতাধিক অনুপ্রবেশের চেষ্টা সফল করতে সাহায্য করেছিল বাগু খান।
শনিবার ভোরে গুরেজ সেক্টরের নওশেরা নার এলাকায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিল জঙ্গিরা। সেই সময় সতর্ক জওয়ানরা তাদের উপস্থিতি টের পান। শুরু হয় গুলি বিনিময়। খানিকক্ষণের সংঘর্ষে বাগু খান ও তার এক সঙ্গী খতম হয়। সেনা সূত্রে খবর, ওই এলাকায় আরও পাঁচজন জঙ্গি লুকিয়ে থাকতে পারে। তাই এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চলছে।
নিরাপত্তা মহলের মতে, বাগু খানের মৃত্যু সীমান্তপারের জঙ্গি সংগঠনগুলির কাছে বড় ধাক্কা। কারণ, গুরেজের দুর্গম ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশের জন্য যে কয়েকজন বিশেষজ্ঞকে ভরসা করা হত, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল এই বাগু খান। সীমান্তের কঠিন ভূগোলের গোপন পথ সে হাতের তালুর মতো চিনত। এই জ্ঞানের কারণেই তিন দশক ধরে সেনার চোখ এড়িয়ে বারবার সফলভাবে অনুপ্রবেশ করাতে সক্ষম হয়েছিল সে।
কয়েক দিন আগেই, গুরেজ সেক্টরে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা দুই জঙ্গিকে খতম করেছিল ভারতীয় সেনা। তার ঠিক পরেই এদিন বাগু খান গুলিতে মারা গেল। ফলে, ধারাবাহিক অভিযানে সীমান্তে জঙ্গি অনুপ্রবেশের বড় নেটওয়ার্কে টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে নিরাপত্তা বাহিনী।