পিনাকী মিশ্র একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতা এবং দেশের প্রথম সারির আইনজীবীদের একজন।

পিনাকী মিশ্র।
শেষ আপডেট: 5 June 2025 16:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জার্মানির বার্লিনের এক রাজপ্রাসাদে গাঁটছড়া বাঁধলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও ওড়িশার বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী পিনাকী মিশ্র। রাজনীতির ময়দানে এক চমকপ্রদ জুটির এই ডেস্টিনেশন ওয়েডিং ঘটে গেছে এক রকম নিঃশব্দেই।
৫১ বছরের মহুয়া ও ৬৫ বছরের পিনাকীর এ বিয়ে তাঁদের দু’জনের জন্যই দ্বিতীয়। ইউরোপের মাটিতে বহুদিনের সম্পর্কের আইনি স্বীকৃতি দিলেন তাঁরা। বার্লিনের ঐতিহাসিক ব্র্যানডেনবার্গ গেটের কাছেই এক প্রাচীন প্রাসাদে সারা হয় বিয়ের অনুষ্ঠান। ঘিয়ে ও পিঙ্ক রঙের শাড়িতে সজ্জিত মহুয়া এবং সাদা কুর্তা-পাজামা ও জহর কোটে পিনাকী মিশ্রর ছবি সামনে আসতেই জানাজানি হয়েছে বিয়ের খবর।
পিনাকী মিশ্র একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতা এবং দেশের প্রথম সারির আইনজীবীদের একজন। ১৯৫৯ সালের ২৩ অক্টোবর ওড়িশায় জন্ম পিনাকীর। আইনজীবী হিসেবে তিনি সুপ্রিম কোর্টের ‘সিনিয়র অ্যাডভোকেট’, এবং প্রায় সব বড় হাইকোর্ট ও ট্রাইবুনালে আইন লড়েছেন। শিক্ষাজীবনে তিনি দিল্লির সেন্ট স্টিফেন্স কলেজ থেকে ইতিহাসে অনার্স এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ থেকে এলএলবি পাশ করেন।
তিনি প্রথম ১৯৯৬ সালে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে পুরী লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হন, যেখানে তিনি তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ব্রজ কিশোর ত্রিপাঠিকে পরাজিত করেন। পরে তিনি বিজু জনতা দলে যোগ দেন এবং একাধিকবার পুরী কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন।
তবে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে তাঁকে আর টিকিট দেয়নি বিজেডি। ওড়িশা রাজনীতিতে গুঞ্জন, মহুয়ার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েই বিতর্ক এড়াতে তাঁকে প্রার্থী করেননি নবীন পট্টনায়েক। যদিও, পাল্টা মতে, পিনাকী নিজেই প্রার্থী হতে চাননি।
ওড়িশা ইলেকশন ওয়াচ এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (ADR)-এর প্রকাশিত, ২০১৯ সালের এক রিপোর্টে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের তৃতীয় দফায় ওড়িশার প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী প্রার্থী ছিলেন পিনাকী মিশ্র। বিজেডি-র পুরী লোকসভা প্রার্থী এই প্রবীণ আইনজীবীর মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১১৭ কোটিরও বেশি!
তৃতীয় দফার নির্বাচনে ৬টি লোকসভা আসন, সম্বলপুর, কেওনঝাড়, ঢেঙ্কানল, কটক, পুরী এবং ভুবনেশ্বর এবং মোট ৪২টি বিধানসভা আসনে ভোট হয়েছিল। সেই পর্বের মোট ৩৫৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ১১৯ জনই ছিলেন কোটিপতি। ১১৭ কোটির মালিক পিনাকী তাঁদেরই সবার ওপরে।
তৃণমূল ও বিজেডি—ভারতের দুই আঞ্চলিক দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ মুখের এমন সংযোগ নিঃসন্দেহে নজরকাড়া। একদিকে আগ্রাসী ও স্পষ্টভাষী হিসাবে পরিচিত মহুয়া মৈত্র, অন্যদিকে অভিজ্ঞ ও প্রজ্ঞাবান আইনজীবী ও রাজনীতিক পিনাকী মিশ্র—তাঁদের এই যুগলবন্দি ভারতের রাজনৈতিক জগতের নতুন চর্চার জন্ম দিচ্ছে।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্ক থেকে দূরে সরে দু’জনে যেভাবে ব্যক্তিগত পরিসরে বিয়ে সারলেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এখন দেখার, এই ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভবিষ্যতে কোনও রাজনৈতিক সমীকরণকেও নতুন রঙ দেয় কিনা!