উত্তরপ্রদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি ঘিরে এক অভূতপূর্ব জালিয়াতির ঘটনায় এই খ্যাতনামা হেয়ারস্টাইলিস্ট এখন খোদ অভিযুক্ত। তাঁর নামে রাজ্যে দায়ের হয়েছে ২৩টি এফআইআর, জারি হয়েছে লুকআউট নোটিসও।

জাভেদ হাবিব
শেষ আপডেট: 10 October 2025 17:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একচেটিয়া বলিউড তারকাদের চুলের স্টাইল (Hair Style) করতেন তিনি। দেশজোড়া জনপ্রিয়তা ছিল তাঁর। আর এখন কোটি টাকার প্রতারণায় অভিযুক্ত জাভেদ হাবিব (Jawed Habib)। সেলিব্রিটি জগৎ থেকে অপরাধের কাঠগড়ায় চলে এসেছেন তিনি। কিন্তু কেন এমন হল তাঁর সঙ্গে, কী এমন করলেন?
উত্তরপ্রদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি (Crypto Currency) ঘিরে এক অভূতপূর্ব জালিয়াতির ঘটনায় এই খ্যাতনামা হেয়ারস্টাইলিস্ট এখন খোদ অভিযুক্ত। তাঁর নামে রাজ্যে দায়ের হয়েছে ২৩টি এফআইআর, জারি হয়েছে লুকআউট নোটিসও (Lookout Notice)। অভিযোগ, হাবিব ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা কয়েকশো বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে কোটি টাকার প্রতারণা করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালের শুরুতে। উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) সম্বল জেলার সরায়াতারেন হোটেলে আয়োজিত এক ‘হেয়ার অ্যান্ড বিউটি’ সেমিনারে হাজির ছিলেন জাভেদ হাবিব, তাঁর ছেলে আনাস এবং সহযোগী সৈফুল্লাহ খান। কিন্তু কর্মশালার আড়ালে চলে অন্য খেলা! বিনিয়োগকারীদের দেওয়া হয় এক ‘চমকপ্রদ সুযোগ’। বলা হয়, ৫ থেকে ৭ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে ‘ফলিকল গ্লোবাল কোম্পানি’ (FLC)-র মাধ্যমে বিটকয়েন ও বিনান্স কয়েনে বছরে ৫০-৭৫ শতাংশ মুনাফা মিলবে।
হাবিবের খ্যাতিই ছিল সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। তাঁর নাম ও জনপ্রিয়তা ভরসা জোগায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। অনেকে জীবনসঞ্চয় ঢেলে দেন সেই লোভে। সম্বলের পুলিশ সুপার কৃষ্ণকুমার বিষ্ণোই জানিয়েছেন, “প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫-৭ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, কয়েক মাসের মধ্যেই মুনাফা মিলবে। কিন্তু আড়াই বছর কেটে গেলেও কেউ টাকাটা ফেরত পাননি।”
পুলিশ সূত্রে খবর, নগদ ও অনলাইন দুই পথেই টাকা উঠত। পরে সেই অর্থ ঘুরিয়ে দেওয়া হত ৮-১০টি ভুয়ো সংস্থার একাধিক অ্যাকাউন্টে। পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের নগদপ্রবণ বাজার আর হাবিবের খ্যাতিকে ব্যবহার করে আড়াই বছর ধরে চলেছে এই কারবার।
কিন্তু ২০২৩-এর মাঝামাঝি আচমকা বন্ধ হয়ে যায় ‘এফএলসি’-র অফিস। টাকা ফেরতের দাবি তুললে বিনিয়োগকারীদের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তারপর থেকেই হাবিব পরিবার গা-ঢাকা দেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, বিনিয়োগকারীদের টাকা না ফেরালে ফৌজদারি আইন অনুযায়ী (BNS-এর ১০৭ ধারা) তাঁদের সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত হতে পারে।
অন্যদিকে, হাবিবের আইনজীবী পবন কুমার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাঁর মক্কেলের 'কোনও প্রত্যক্ষ ভূমিকা নেই'। তবে তদন্তকারীরা বলছেন, হাবিবের উপস্থিতিই এই প্রতারণাকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে।
বর্তমানে পুলিশ ক্রিপ্টো প্রতারণার জাল কতদূর এগিয়েছে তা খুঁজে দেখতে ব্যস্ত। আসলে সেই জালে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ, যাঁরা এক জনপ্রিয় মুখের ভরসায় নিজের সঞ্চয় হারিয়েছেন।