এবর্ষায় ভয়াবহ ক্ষতির মুখে হিমাচলপ্রদেশ। ভূমিধস, মেঘভাঙা বৃষ্টি ও দুর্ঘটনায় মৃত ৪৪৮ জনের। ক্ষতির অঙ্ক ছাড়িয়েছে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। রাজ্যজুড়ে বিপর্যস্ত পরিকাঠামো, কৃষি ও পশুপালন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 22 September 2025 08:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃষ্টি থামার নাম নেই দেশে। সেপ্টেম্বর শেষ হতে চলল, কিন্তু বর্ষা বিদায়ের পরিস্থিতিই তৈরি হয়নি। এ মরশুমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হিমাচল প্রদেশ। ধাক্কা সামলানোর আগেই আবার ধাক্কা। রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের (SDMA) সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০ জুন থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টির ফলে বিভিন্ন ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২৬১ জনের। পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ি রাস্তায় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ১৮৭ জন। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪৮।
টানা বর্ষণের জেরে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল ভূমিধস। ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এতে। ডুবে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৪১ জন। মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে মৃত্যু হয়েছে ১৮ জনের। এছাড়াও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, বাড়ি ভেঙে পড়ে ও খাড়া ঢাল থেকে পড়ে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মান্ডি ও চাম্বা জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। দুই জেলাতেই অপর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা ৪০-এরও বেশি মানুষের।
হিমাচলের দুর্গম পাহাড়ি পথই বাড়িয়েছে বিপদ। রাজ্যের মোট দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর মধ্যে সিংহভাগই ঘটেছে চাম্বা, মান্ডি, শিমলা, সোলান ও কাংড়ায়। চাম্বা ও মান্ডিতে পৃথকভাবে ২৪ জন করে মারা গিয়েছেন পথ দুর্ঘটনায়। শিমলা ও সোলানে মৃত্যু হয়েছে ২৫ জনের। ছোট জেলা কিন্নৌরেও পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন।
বর্ষা বিপর্যয়ে রাজ্যের অবকাঠামোগত ক্ষতির অঙ্ক ছাড়িয়েছে ৪,৮৪১.৭৯ কোটি টাকা। জনকল্যাণ দফতর (PWD)-এর হিসাব বলছে, রাস্তা ও সেতুর ক্ষতিই হয়েছে ২,৯৮,১১৩ লক্ষ টাকার। জল সরবরাহ প্রকল্পে ক্ষতি হয়েছে ১,৪৬,৩৮৫ লক্ষ টাকা, আর বিদ্যুৎ পরিকাঠামোয় ক্ষতির পরিমাণ ১৩,৯৪৬ লক্ষ।
যেখানে শয়ে শয়ে মানুষ মারা গেছে, সেখানে কৃষি ও পশুপালনও ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। মারা গিয়েছে ২৯,০০০-রও বেশি পশু, যার মধ্যে ২৬,০০০ মুরগি। ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার পরিবার। ভেঙে পড়েছে ৬৬৩টি বাড়ি, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত আরও ১,০০০টি বাড়ি। ধসে গিয়েছে ২,৩০০-রও বেশি গোয়ালঘর।
এই ধাক্কা সামলে উঠতে সময় লাগবে হিমাচলের। এখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নয়। বৃষ্টি চলছে। টুকটাক দুর্ঘটনার খবর রোজই কম-বেশি আসছে। প্রশাসনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার নিরলসভাবে চেষ্টা করছে প্রয়োজনীয় পরিষেবা ফের চালু করতে। তবে পরিস্থিতি এখনও ঠিক নয়। তাই নাগরিকদের সতর্ক থাকতে ও আবহাওয়া দফতরের নির্দেশ মেনে চলতে অনুরোধ করা হচ্ছে।