
অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও ভিকে সাক্সেনা। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 7 February 2025 16:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের আগের দিন, শুক্রবার ভরপুর রাজনৈতিক নাটক রাজধানীতিতে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির তোলা বিজেপির বিরুদ্ধে 'অপারেশন কমল'-এর অভিযোগ এবং তার পরবর্তীতে লেফটেন্যান্ট গভর্নরের নির্দেশে দুর্নীতি দমন বিভাগের কেজরির বাড়ি ধাওয়া ইস্তক জমজমাট চিত্রনাট্যে সরগরম রাজনীতি। এদিন বিজেপির বিরুদ্ধে অপারেশন লোটাস নিয়ে আপের তোলা অভিযোগ নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভিকে সাক্সেনা। সেই নির্দেশ মতো দুর্নীতি দমন বিভাগ অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাড়িতে যায় তদন্তের উদ্দেশ্যে। কিন্তু, এসিবিকে (অ্যান্টি কোরাপশন ব্যুরো) কেজরির বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। তাই নিয়ে অরবিন্দের বাড়ির সামনে শুরু হয় তর্কবিতর্কের নৌটঙ্কি।
কেজরির তরফে এক আইনজীবী বলেন, এসিবি-র কোনও এক্তিয়ার নেই পদক্ষেপ নেওয়ার। ওদের হাতে কোনও প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ বা নির্দেশনামা ছিল না। রাজনৈতিক নৌটঙ্কি তৈরি করতে এসব বিজেপির তৈরি করা খেলা। এইসব ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছে আপের নবতম অভিযোগ। বিজেপির বিরুদ্ধে আপের অভিযোগ, তাদের প্রার্থীদের দল ভাঙানোর জন্য একেকজনকে ১৫ কোটি টাকা করে দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে গেরুয়া শিবির। আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল আগে দাবি করেছিলেন, তাঁর ১৬ জন প্রার্থীকে দলবদলের জন্য প্রত্যেককে ১৫ কোটি টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। টাকা ছাড়াও ভোটে জিতলে তাঁদের মন্ত্রী করারও টোপ দিয়েছে বিজেপি।
আপের এই অভিযোগের বিরুদ্ধে শুক্রবার দিল্লি বিজেপির সম্পাদক বিষ্ণু মিত্তল উপ রাজ্যপালকে নালিশ জানান। মিত্তল বলেন, অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও সঞ্জয় সিং যে অভিযোগ এনেছেন তা অত্যন্ত গুরুতর এবং অভিযোগ প্রমাণে দ্রুত তদন্তের আর্জি জানাচ্ছি। আপ নেতারা মৌখিকভাবে অভিযোগ তুললেও এর সপক্ষে কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেননি। যাতে তাঁদের বক্তব্যের সারবত্তা বিশ্বাসযোগ্য হয়। সাক্সেনার কাছে দুর্নীতি দমন বিভাগকে দিয়ে তদন্তের আর্জি জানিয়ে লিখেছেন, ভোটের ফল প্রকাশের আগে আম আদমি পার্টি শহরে অরাজকতা ছড়াতে চাইছে। অশান্তি সৃষ্টির খেলা চালাচ্ছে।
তাঁর এই নালিশের ঠিক পরেই সাক্সেনার প্রিন্সিপাল সেক্রটারি এক নির্দেশে জানান, আপের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করবে এসিবি। সঞ্জয় সিং এ ব্যাপারে বলেন, আমরা অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু, বিজেপি এনিয়ে অহেতুক নাটক করছে। এসিবি তদন্ত করুক। আমরাও এসিবিতে যাচ্ছি, লিখিত অভিযোগ জমা দিতে। তিনি আরও বলেন, আমি অভিযোগ তোলার সময়ই একটি ফোন নম্বরের কথা বলেছিলাম। সেই ফোন থেকেই প্রস্তাবগুলি এসেছিল, এরপরেও প্রমাণের আর কী থাকতে পারে, প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সূত্রে জানা গিয়েছে, এসিবি এই তদন্তে তিনটি দল গঠন করেছে। সঞ্জয় সিংয়ের বক্তব্য সংস্থার অফিসে রেকর্ড করা হবে। কেজরিওয়াল ও আপের মন্ত্রী মুকেশকুমার আহলওয়াতের বক্তব্য তাঁদের বাড়িতে গিয়ে রেকর্ড করবেন আধিকারিকরা। প্রসঙ্গত, দিল্লি ভোটের এক্সিট পোলে অধিকাংশ সমীক্ষা রিপোর্ট ২৭ বছর পর বিজেপির প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও আপ এই সমীক্ষাকে মানতে চায়নি। দাবি-পাল্টা দাবির মধ্যে আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রকাশ হতে চলেছে গুরুত্বপূর্ণ ভোটের ফল।