এই স্বীকৃতির ফলে মারণ ভাইরাসটি নিয়ে আরও বেশি স্ক্রিনিং ও আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ বাড়বে বলেই আশা প্রকাশ করেছে WHO।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 3 August 2025 19:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হেপাটাইটিস ডি - একটি কম পরিচিত নাম, অথচ ভয়ানক ভাইরাল হেপাটাইটিস, তা নিয়ে বিশ্ব জুড়ে ত্রাস। এবার এই রোগটিকেই ‘কার্সিনোজেনিক’ (অর্থাৎ ক্যানসার ঘটাতে সক্ষম) হিসেবে স্বীকৃতি দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থার (WHO-IARC)। এই স্বীকৃতির ফলে মারণ ভাইরাসটি নিয়ে আরও বেশি স্ক্রিনিং ও আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ বাড়বে বলেই আশা প্রকাশ করেছে WHO।
লিভারে প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন তৈরি করে এমন ভাইরাল হেপাটাইটিস মূলত পাঁচ ধরনের ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায় A, B, C, D এবং E। এর মধ্যে হেপাটাইটিস B, C এবং D দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করে, যা সিরোসিস, লিভার ফেলিওর এবং লিভার ক্যানসারের সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
হেপাটাইটিস ডি (HDV) শুধু তাঁদেরই আক্রমণ করে, যাঁদের শরীরে আগে থেকেই হেপাটাইটিস বি রয়েছে। WHO-IARC-এর তথ্য অনুযায়ী, হেপাটাইটিস বি-এর তুলনায় হেপাটাইটিস ডি-তে আক্রান্তদের লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি ২ থেকে ৬ গুণ বেশি।
বিশ্বব্যাপী এক অনুমান বলছে, প্রায় ৪.৮ কোটি মানুষ HDV-তে আক্রান্ত। হেপাটাইটিস বি-র সঙ্গে মিলে এই ভাইরাসটি হেপাটাইটিসজনিত সংক্রমণের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যুহার তৈরি করে - যা প্রায় ২০ শতাংশ।
এই ভাইরাসের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি আফ্রিকা, এশিয়া, আমাজন এবং ভারতেরও বেশ কিছু অংশে। গবেষণা বলছে, অঞ্চলভেদে হেপাটাইটিস বি-তে আক্রান্তদের ৮ থেকে ৩৭ শতাংশ-এর শরীরে HDV সংক্রমণও পাওয়া গেছে।
WHO-এর ২০২৪ সালের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ সালে ভারতে ভাইরাল হেপাটাইটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৩.৫ কোটিরও বেশি। এর মধ্যে ২.৯৮ কোটি কেসই ছিল হেপাটাইটিস বি। ওই বছর গোটা বিশ্বের হেপাটাইটিসের রোগীর মধ্যে ভারতের অংশ ছিল ১১.৬ শতাংশ।
রিপোর্টটিতে আরও বলা হয়েছে, সেই বছর ভারতে হেপাটাইটিস বি ও সি-তে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১.২৫ লক্ষের বেশি মানুষের।
ভারতের অভিজ্ঞ গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে এখনও HDV সংক্রমণ প্রায় নজরবিহীন রয়ে গেছে। তার প্রধান কারণ পর্যাপ্ত স্ক্রিনিংয়ের অভাব। বিশেষ করে পূর্ব ভারতের কিছু অংশে এবং HBV আক্রান্তদের মধ্যে এই সংক্রমণ বেশি দেখা যায়।
কলকাতা মেডিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডাঃ শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের মতে, “WHO-IARC-এর এই ক্যাটাগোরি জনস্বাস্থ্য স্তরে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখন প্রয়োজন HDV-র বিষয়ে সচেতনতা, স্ক্রিনিং ও প্রতিরোধকে হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ করা।”
তিনি আরও বলেন, “লিভার ক্যানসার এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। তাই হেপাটাইটিস বি-র পাশাপাশি HDV-এর মতো কো-ইনফেকশন যত তাড়াতাড়ি ধরা পড়বে, ততই কমবে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা।”