হারদা জেলার একটি পশুপালন কলেজের বিজ্ঞাপনে মুরগির নাম রাখা হয় ‘নর্মদা’। ধর্মীয় সংগঠন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, এতে মা নর্মদার অবমাননা করা হয়েছে।

মুর্গির নাম নর্মদা!
শেষ আপডেট: 18 July 2025 12:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটি পশুপালন কলেজের বিজ্ঞাপনে মুরগির নাম রাখা হয়েছে 'নর্মদা'! এই নামকরণকে ঘিরে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে মধ্যপ্রদেশের হারদা জেলায়। নর্মদা ব্রাহ্মণ সমাজ-সহ স্থানীয়রা অভিযোগ এনেছে, হিন্দু ধর্মে পূজনীয় ও জীবনীশক্তির উৎস হিসেবে বিবেচিত ‘মা নর্মদা’র নামে একটি মুরগির নাম রাখা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের শামিল।
স্থানীয়দের দাবি, নর্মদা নদী কেবল একটি নদী নয়, হিন্দু সমাজের কাছে তিনি মা। সেই মায়ের নাম একটি পশুর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া চূড়ান্ত অশালীন ও অবমাননাকর।
এই প্রসঙ্গে নর্মদা ব্রাহ্মণ সমাজের সভাপতি অশোক পরাশর বলেন, 'বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ এই বিজ্ঞাপনের বিরোধিতা করেছেন। মা নর্মদা আমাদের বিশ্বাসের প্রতীক। তাঁর নাম কোনও মুরগির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া অত্যন্ত অসম্মানজনক। আমরা দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে এই বিজ্ঞাপন থেকে ওই নাম সরানো হোক।'
এই বিষয়ে হারদার জেলাশাসক সঞ্জীব নাগু বলেন, 'নর্মদা নাম নিয়ে আপত্তির কথা উল্লেখ করে একটি মেমোরান্ডাম জমা পড়েছে। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।'
যদিও বিজ্ঞাপনটি একটি পশুপালন কলেজের তরফে প্রকাশিত হয়েছে, কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে—এই নামকরণ তাঁদের করা নয়। কলেজের পরিচালক রাজীব খারে জানান, 'এই মুরগির নাম দেওয়া হয়েছিল জবলপুরের পোলট্রি সেন্টারে, যেখান থেকে এই মুরগিগুলি কেনা হয়েছে। তারা ওই মুরগিগুলোর নাম রেখেছিল নর্মদা, কড়কনাথ ও সোনালি।'

তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞাপনটি ছিল বিভিন্ন প্রজাতির মুরগি বিক্রির উদ্দেশে। সেখানে ওই নামগুলি স্বাভাবিকভাবেই ব্যবহৃত হয়েছিল, কোনও অবমাননার উদ্দেশ্যে নয়।
তবে এসব যুক্তি না শুনে, অশোক পরাশরের তত্ত্বাবধানে স্থানীয়রা কালেক্টরেট পর্যন্ত মিছিল করে যায়। তাঁরা যুগ্ম কালেক্টরের কাছে লিখিতভাবে নিজেদের আপত্তি জানিয়ে মেমোরান্ডাম জমা দেন এবং দাবি তোলেন, 'নর্মদা' নামটি অবিলম্বে ওই বিজ্ঞাপন থেকে সরাতে হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের তরফে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও বিতর্কে জনসাধারণের আবেগ ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রশ্ন ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে।