পুলিশ জানিয়েছে, ডাবরায় এক ২ বছর ১১ মাসের শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে লভজিতের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা ছিল।

লভজিৎ সিং রানা।
শেষ আপডেট: 26 December 2025 13:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৬ বছরের ইঞ্জিনিয়ার লভজিৎ সিং রানা বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবারের অভিযোগ। গোয়ালিয়রের গোলা কা মন্দির এলাকার এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ডাবরায় এক ২ বছর ১১ মাসের শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে লভজিতের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা ছিল। মেধাবী ছাত্র লভজিতের পরিবারের অভিযোগ, সেই মামলা মিটিয়ে ফেলতে নির্যাতিতার পরিবারের তরফ থেকে বারবার টাকা চেয়ে ব্ল্যাক মেল করা হচ্ছিল তাঁকে।
শিশুটির মা একটি মিথ্যা অভিযোগ করে ৬০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন। সেই বাবদ ৩০ লক্ষ টাকা মিটিয়েও দেওয়া হয়। তারপরেও আরও ৩০ লক্ষ টাকা দাবি করা হতে থাকে। সেই হতাশা-অপমানে বিষ খেয়েছেন লভজিৎ বলে অভিযোগ তাঁর পরিবারের। লভ গুরুগ্রামে একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি করতেন। কিন্তু, পকসো ধারায় মামলা হওয়ায় এবং তিনি গ্রেফতার হওয়ায় তাঁর চাকরি চলে যায়।
তারপর থেকে তিনি তাঁদের এক আত্মীয়ের বাড়ি পুরুষোত্তম বিহার কলোনিতে থাকছিলেন। কয়েকদিন আগে রাতে তিনি বিষ খান। তাঁকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তিনি মারা যান। তারপরেই বিস্তারিত রহস্য প্রকাশ্যে এসে পড়ে। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বছর এপ্রিলে লভ ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন। তিনি ডাবরা নামে এক জায়গায় তাঁর বন্ধু আকাশের সঙ্গে দেখা করতে যান। এফআইআর অনুসারে মেয়েটির মা অভিযোগ করেন, গাড়ি চাপানোর নাম করে তাঁর মেয়েকে আকাশ ও লভ নিয়ে যায়। পরে মেয়েটি মাকে জানায়, দুই বন্ধু তাকে নির্যাতন করেছে এবং তার গোপনাঙ্গ ক্ষত হয়েছে।
নিহতের আত্মীয় বিপিন রানা বলেন, মেয়েটির মা ও তাঁদের আইনজীবী একটি মিথ্যা মামলা করেন। এবং তাঁদের পরিবারকে মামলা মিটিয়ে নিতে টাকা দাবি করতে থাকেন। সেই বাবদ ৩০ লক্ষ টাকা দিয়ে দেওয়া হলেও তারপরেও খাঁই মেটে না। আরও ৩০ লক্ষ টাকা চাইতে থাকেন। এই ব্ল্যাক মেলিংয়ের জন্য প্রচণ্ড হতাশায় ভুগছিল লভ। যে কারণে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।
পরিবার জানিয়েছে, ডাবরার অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিল সে। দশম ও দ্বাদশের পরীক্ষায় শীর্ষ স্থান পেয়েছিল। ইন্দোরের আইপিএস ইনস্টিটিউট থেকে তিনি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক হন। পরে গুরুগ্রামের একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চলছে।