
শেষ আপডেট: 17 October 2023 10:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছেলের সঙ্গে হতদরিদ্র এক পরিবারের মেয়ের দিয়েছিলেন গুরুগ্রামের এক বাসিন্দা। কনের বাড়ি থেকে কোনও পণ নিতে চাননি। শুধু চেয়েছিলেন, তাঁর ছেলে ওই মেয়ের সঙ্গে সুখে ঘর-সংসার করবে। কিন্তু সেই ভাবনাই সার! বিয়ের দ্বিতীয় দিনেই চম্পট দিল নতুন কনে। সূত্রের খবর, নগদ দেড় লক্ষ টাকা সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন তিনি। রয়েছে বেশ কিছু গয়নাও। ঘটনাটি ঘটেছে হরিয়ানার গুরুগ্রামের বিলাসপুর এলাকায়।
কনে পালিয়ে যাওয়ার পরেই পুলিশের দ্বারস্থ হয় তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন। মনে করা হচ্ছে, চুরির পরিকল্পনা করেই বিয়ে করেছিলেন সেই তরুণী। ঘটনার পর রীতিমতো কপাল চাপড়াচ্ছেন বরের বাবা অশোক কুমার। তিনি নিজেই মেয়ের খোঁজ নিয়ে এসে বিয়ে দিয়েছিলেন ছেলের সঙ্গে। অশোক জানিয়েছেন, ছেলের পাত্রী খোঁজার সময়ই মঞ্জু নামের এক মহিলার সঙ্গে আলাপ হয় তাঁর। সেই মহিলাই অশোকের ছেলের জন্য পাত্রীর খোঁজ এনে দেন।
অশোক আরও বলেন, “আমায় বলা হয়েছিল পাত্রীর নাম প্রীতি। খুবই ভদ্র মেয়ে। কিন্তু পরিবারের অবস্থা একেবারেই ভাল না। তাই কোনওরকম পণ দিতে পারবে না। আমিও চাইনি বিয়ের জন্য যৌতুক নিতে। ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি হয়ে যাই।” তিনি জানান, এরপরই বিয়ের কথা পাকা হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, মেয়ের পরিবারের কথা ভেবে তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য এক লক্ষ টাকা এবং জামাকাপড় দিয়ে সাহায্যও করেন তিনি।
গত ২৬ জুলাই ওই কনের সঙ্গে ছেলের বিয়ে দেন অশোক। রাতে পারিবারিকভাবে ছোট অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু এর পরেরদিন সকাল থেকেই হঠাৎ বেপাত্তা হয়ে যান ওই তরুণী। কোনওভাবেই আর খোঁজ মেলেনি তাঁর। অশোক বুঝতে পারেন, তিনি এবং তাঁর পরিবার প্রতারিত হয়েছেন। কারণ ঘরে থাকা নগদ টাকা এবং গয়নাগাটিও ছিল না। এরপর মঞ্জু নামের ওই মহিলা প্রীতিকে খুঁজতে সাহায্যের আশ্বাস দিলেও কিছু করেননি।
তাই নিজেই প্রীতির খোঁজ শুরু করেন অশোক। কিন্তু এইসময় তাঁকে খুনের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বিপদ বুঝে আর দেরি করেননি তিনি। সঙ্গে সঙ্গে থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশের কাছে অশোক দাবি করেছেন, তাঁদের টাকা হাতানোর জন্যই বিয়ে করেছিলেন প্রীতি। এর পিছনে একটা গভীর ষড়যন্ত্র কাজ করছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মনে করা হচ্ছে, একজন নয়, বরং একটি চক্র কাজ করছে এর নেপথ্যে।