
শেষ আপডেট: 3 November 2023 18:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাজারে বসে সবজি বিক্রি করতেন। করোনার সময়ে প্রচুর লোকসান হয়। সংসার টানতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল বছর সাতাশের ঋষভ শর্মাকে। তাই চটজলদি লাভের মুখ দেখতে বিকল্প উপায়ে খুঁজে বের করেছিলেন তিনি।কম সময়ে অনেক টাকা রোজগারের আশায় অনলাইনে প্রতারণার ব্যবসা ফেঁদে বসেন ঋষভ। কোটি কোটি টাকা প্রতারণা করেছেন বলে অভিযোগ। ৬ মাসে তাঁর আয় প্রায় ২৭ কোটি টাকা। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না।
পুলিশ জানিয়েছে, ফরিদাবাদের বাসিন্দা ঋষভ। সবজি বিক্রেতা কীভাবে অনলাইনে হ্যাকিং শিখে প্রতারণার জাল পেতেছিলেন তা জেনে তাজ্জব হয়ে গেছে পুলিশ।তদন্তকারীরা বলছেন, ওক বন্ধুর সঙ্গে মিলে প্রথমে বাড়িতে বসেই কিছু কাজ শুরু করেন। ধীরে ধীরে কম্পিউটার হ্যাকিংয়ে হাত পাকাতে শুরু করেন। ভুয়ো লিঙ্ক পাঠিয়ে প্রতারণা, চাকরির টোর দিতে ফাঁসানো, নানারকম নম্বর থেকে ফোন করে কৌশলে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আধার কার্ডের জরুরি তথ্য জেনে নিয়ে প্রতারণা করা শুরু করেন। ছোট ছোট কাজে সাফল্য আসার পরে প্রতারণার বড় বড় ফাঁদ পাততে শুরু করেন ঋষভ।
ওই যুবকের শেষ শিকার দেহরাদূনের এক ব্যবসায়ী। তাঁর থেকে ২০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ঋষভ। পুলিশ জানিয়েছে, একটি হোটেলের নকল ওয়েবসাইট দেখিয়ে সেখানে রেটিং দেওয়ার জন্য প্রাথমিক ভাবে হাজার দশেক টাকা করে দিতেন। পরে তাঁদের আরও বেশি বিনিয়োগ করতে বলতেন। ভুল বুঝে লোকজন বেশি টাকা বিনিয়োগ করলেই সঙ্গে সঙ্গে সব যোগাযোগ ছিন্ন করে পুরো টাকাই হাতিয়ে নিতেন।
দেশের ১০টি রাজ্যে নিজের প্রতারণার জাল ছড়িয়েছিলেন অভিযুক্ত। ৩৭টি জালিয়াতি মামলার পাশাপাশি আরও ৮৫৫টি অলাইন জালিয়াতি কাণ্ডে জড়িত ঋষভ। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, চিন ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশের অপরাধীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েও প্রতারণা শুরু করেছিলেন ঋষভ। প্রায় ২৭ কোটি টাকা লোক ঠকিয়ে রোজগার করেছেন তিনি। তবে পুলিশের ধারণা, এ কাজে ঋষভ একা নন, অন্য কোনও বড় অপরাধচক্রও জড়িত। সেই চক্রের খোঁজ করছে পুলিশ।