
সংযুক্তা নারায়ণ।
শেষ আপডেট: 19 March 2025 13:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাম সংযুক্তা। বয়স ৭ বছর। যে বয়সে পার্কের দোলনায় দোল খাওয়ার সময়, সেই বয়সেই সংযুক্তা দেশ তো বটেই গোটা বিশ্বের চোখ কপালে তুলে দিয়েছে। খেলনাবাটি, পুতুলের বিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব ছেড়ে অত্যন্ত দুরূহ কোরীয় মার্শাল আর্ট তাইকোন্ডুর প্রশিক্ষক হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড (GWR) গড়েছে। বিশ্বের সর্বকালের সর্বকনিষ্ঠ তাইকোন্ডু প্রশিক্ষকের মর্যাদার মুকুট মাথায় উঠেছে মাদুরাইয়ের একরত্তি মেয়েটির।
জিডব্লুআর ইনস্টাগ্রামে তার বেশ কয়েকটি ছবি দিয়ে পোস্ট করে লিখেছে, ৭ বছরের মেয়ে ইতিহাস গড়েছে। সর্বকালের সর্বকনিষ্ঠ তাইকোন্ডু প্রশিক্ষকের শিরোপা পেয়েছে মাত্র ৭ বছর ২৭০ দিন বয়সে। ভারত ও মাদুরাইয়ের শিশুদের কাছে সংযুক্তা নারায়ণ এক অনন্য অনুপ্রেরণা। সংযুক্তা নারায়ণ এক দৃষ্টান্ত, যাকে দেখে অনেকেরই খেলোয়াড় হওয়ার প্রতি ঝোঁক বাড়বে।
তাইকোন্ডু ক্রীড়া সংগঠনের ব্লগ অনুসারে সংযুক্তার বাবা-মায়ের নাম শ্রুতি ও নারায়ণ। মাদুরাই তাইকোন্ডু অ্যাকাডেমি নামে তাঁদের একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে, যে কেন্দ্রটির হাতেও গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড রয়েছে। একরত্তি মেয়েটির এই সাফল্যে নেটপাড়া উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছে। কেউ লিখেছেন, কোনও প্রাপ্তবয়স্কের তুলনায় একটি শিশু অনেক তাড়াতাড়ি নির্ভুল কৌশল রপ্ত করতে পারে। অন্য একজন আশঙ্কা প্রকাশ করে লিখেছেন, এত ছোট বয়সে যদি গোড়ালিতে কোনওভাবে ভারী চোট লাগে, তাহলে সারাজীবনের মতো খেলা ছাড়তে হতে পারে।
নেটপাড়ায় নানা মুনির নানা মত থাকলেও ছোট্ট সংযুক্তার কথায়, আমার মা-বাবা আমায় সবসময় উৎসাহ জুগিয়েছেন। আমাদের বাড়ির দেওয়ালে ওঁদের দুজনের গিনেস রেকর্ডের সার্টিফিকেট ঝুলে আছে। যা দেখে সবসময় আমিও উৎসাহিত হতাম। এখন আমার সার্টিফিকেটও ওঁদেরটার পাশে ঝুলবে, আমি তাতেই খুশি, বলে একগাল হাসে সংযুক্তা।
View this post on Instagram
সংযুক্তা প্রায় দুঘণ্টা ধরে প্রশিক্ষণ দেয়। তার কথায়, আমি খুব ভোরে উঠেই অন্যদের সঙ্গে প্রশিক্ষণ শুরু করি। স্কুল থেকে ফিরেই হোমওয়ার্কগুলি করতে শুরু করি। এরপর কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে আমি বাবার সঙ্গে সন্ধ্যাবেলা ডোজোয় (মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের হলঘর) চলে যাই। আমার খুব ভাল লাগে যে, আমারই বয়সি ছেলেমেয়েদের আমি শেখাই। কখনও কখনও তাদের কাছেও কিছু শিখে ফেলি। গিনেস রেকর্ডে নাম ওঠার পর আমি তো বিখ্যাত হয়ে গেছি, হাসতে হাসতে সংযুক্তা বলে আমার মনে হয় শহরের একটা তারকা হয়ে গেছি আমি।