বেসরকারি হাসপাতালের অতিরিক্ত বিল আদায়ের প্রবণতা রুখতে স্বাস্থ্যবিমা সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘ন্যাশনাল হেল্থ ক্লেমস এক্সচেঞ্জ’ (NHCE) আনা হচ্ছে অর্থ মন্ত্রক ও বিমা নিয়ন্ত্রকের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে।

ছবি এআই দিয়ে তৈরি
শেষ আপডেট: 10 July 2025 20:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাসপাতালের বিলের (Hospital Bill) বাড়বাড়ন্তের জেরে ধাক্কা খাচ্ছে স্বাস্থ্যবীমা (Health Insurance)। আরও বেশি কভার মানেই আরও বেশি খরচ— এ যেন নতুন বাস্তব। এবার তাতে লাগাম টানতে বড়সড় পদক্ষেপ নিচ্ছে কেন্দ্র। বেসরকারি হাসপাতালের অতিরিক্ত বিল আদায়ের প্রবণতা রুখতে স্বাস্থ্যবিমা সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘ন্যাশনাল হেল্থ ক্লেমস এক্সচেঞ্জ’ (NHCE) আনা হচ্ছে অর্থ মন্ত্রক ও বিমা নিয়ন্ত্রকের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে।
সরকার ও বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা IRDAI-র (Insurance Regulatory and Development Authority of India) সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে ধরা পড়েছে, একাধিক হাসপাতাল চিকিৎসা খরচ বাড়িয়ে দেখাচ্ছে। বিশেষ করে যাঁদের বিমার কভার বেশি, তাঁদের কাছ থেকে চড়া বিল নেওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট। এর ফলে বীমা সংস্থাগুলিও বাড়িয়ে দিচ্ছে প্রিমিয়াম, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
পেশাদার সংস্থা এ অন-এর গ্লোবাল মেডিক্যাল ট্রেন্ড রিপোর্ট জানাচ্ছে, ২০২৫ সালে ভারতে চিকিৎসা খরচ গড় বিশ্ব হারের তুলনায় অনেক বেশি। যেখানে বিশ্বব্যাপী গড় বৃদ্ধির হার ১০ শতাংশ সেখানে ১৩ শতাংশ হারে বাড়বে।
এই পরিস্থিতিতে এনএইচসিই-কে আরও কড়া নজরদারিতে আনা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের অধীনে থাকা এই ক্লেইমস এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম এখন থেকে সরাসরি আইআরডিএআই ও অর্থ মন্ত্রকের নজরদারিতে চলবে। যার ফলে, বিমা সংস্থাগুলির ‘collective bargaining power’ বাড়বে, অর্থাৎ তারা হাসপাতালের কাছে নির্দিষ্ট চিকিৎসার নির্ধারিত মূল্য চেয়ে দর কষাকষিতে নামতে পারবে।
বলার অপেক্ষা রাখে না, বিমার প্রিমিয়ামের বার্ষিক বৃদ্ধির হারও ধাক্কা খাচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তা নেমে এসেছে ৯ শতাংশে, যেখানে এক বছর আগেও তা ছিল ২০ শতাংশের বেশি। অনেকেই আর্থিক চাপে বিমা নবীকরণ করছেন না।
সরকার মনে করছে, নজরদারি বাড়িয়ে এবং স্পষ্ট নিয়ম চালু করে এই অসংগতি কিছুটা হলেও রোখা সম্ভব। কেন্দ্রীয় অর্থ এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রক এই নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললেও, ভিতরে ভিতরে নীরব বিপ্লব শুরু হয়ে গিয়েছে।