
বাতাসে নারকেল গাছের পাতার ঘসটানির সঙ্গে আরব সাগরের ঢেউয়ের যুগলবন্দি শুনতে শুনতে চোখ বুজে আসবে।
শেষ আপডেট: 21 March 2025 14:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোয়ার সোনালি সৈকতে নীল সাগরের জলে গা ভিজিয়ে পূর্ণিমারাতে মধুচন্দ্রিমার সুখস্মৃতির ফ্রেম অনেকেরই ড্রয়িং রুমের দেওয়াল আলো করে রেখেছে। আগামী গ্রীষ্মের ছুটিতে ইতিমধ্যেই অনেকে ছক কষেও ফেলেছেন গোয়া ভ্রমণের। কারণ চৈত্র কাটলেই ফের শুরু হতে চলেছে বিয়ের মরশুম। তাই নববধূকে নিয়ে বালুকাবেলার কুঁড়েঘরে বা কুটিরে কাটানোর রোমাঞ্চ অনেকেরই জানা। বাতাসে নারকেল গাছের পাতার ঘসটানির সঙ্গে আরব সাগরের ঢেউয়ের যুগলবন্দি শুনতে শুনতে চোখ বুজে আসবে।
কিন্তু, রাজ্যের সঠিক নিয়মবিধি না মেনে চলার জন্য সরকার সৈকতের ২৩টি বিশ্রামাগার বা কুটিরের ঝাঁপ বন্ধ করে দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার গোয়া পর্যটন দফতর এক নির্দেশে ২৩টি সৈকত ছাউনি বন্ধ করতে বলেছে। এগুলির বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ রয়েছে। যেমন মূল মালিক নিজে না চালিয়ে অন্য কাউকে বরাতে দিয়ে দিয়েছেন। রাজ্যের লোক নন, এমন মানুষও এগুলি চালাচ্ছেন। এছাড়াও, রাজ্য পর্যটন দফতরের অস্থায়ী কুড়েঘরের নিয়মবিধি না মানার অভিযোগ রয়েছে।
পর্যটন দফতর জানিয়েছে, এগুলির সম্পর্কে ভূরি ভূরি অভিযোগ আসছিল। যার মধ্যে অধিকাংশই ছিল নন-গোয়ান অর্থাৎ বহিরাগতরা লিজে নিয়ে এগুলি যথেচ্ছভাবে চালাচ্ছেন। এইসব অভিযোগের উপর ভিত্তি করে পর্যটন দফতর তল্লাশি-অভিযান চালায়। তাতে ১১০ জন মালিককে শোকজ করা হয়েছিল। যার মধ্যে ৫৪টি মামলা মিটে গিয়েছে। ৩১টি বিরুদ্ধে শোকজ নোটিস প্রত্যাহার করা হয়, যখন দেখা যায় এখানে কোনও বিধিভঙ্গ হয়নি। এরপরে ২৩ জন অপারেটরকে তাঁদের ছাউনি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই মালিকদের আগামী ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে তাঁদের অস্থায়ী কুঁড়েঘর খুলে ফেলতে বলেছে সরকার। এছাড়াও তাঁদের ডিপোজিট করা অর্থ সরকার হস্তগত করেছে এবং ২০২৬ সাল পর্যন্ত তারা আর এগুলি চালাতে পারবে না বলে নির্দেশে উল্লেখ রয়েছে। উল্লেখ্য, এগুলি চালানোর জন্য গোয়া স্টেট শ্যাক পলিসি ২০২৩-২৬ নামে একটি বিধি আছে। যে ২৩টি বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে ৬টি হল গোয়ার বাসিন্দা নন এমন ব্যক্তিদের। তদন্ত করে দেখা গিয়েছে, সৈকতে রৌদ্রস্নান করার জন্য যে কাঠের খাটগুলি থাকে তার গায়ে নম্বর দেওয়া থাকলেও তা সরকারি খাতায় নথিভুক্ত নয়। এমনকী অনেকগুলিরই জিএসটি করা নেই। সরকার তিন বছরের জন্য এই ছাউনিগুলিকে বরাত দিয়ে থাকে। উত্তর গোয়ায় ২৬৩ এবং দক্ষিণ গোয়ায় ৯৮টি ছাউনির অনুমোদন রয়েছে।